সাহিত্য – BBangla.net https://bbangla.net বাঙালীর কথা বলে Sat, 07 Jun 2025 08:52:43 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0 https://bbangla.net/wp-content/uploads/2024/09/cropped-Fev-bbangla-32x32.png সাহিত্য – BBangla.net https://bbangla.net 32 32 ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের দাবিতে অনড় বিএনপি https://bbangla.net/2025/06/07/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be/ https://bbangla.net/2025/06/07/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be/#respond Sat, 07 Jun 2025 08:52:43 +0000 https://bbangla.net/?p=3071 চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেছে বিএনপি। শুক্রবার রাতে দলটির স্থায়ী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থানের কথা জনান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের এপ্রিল মাসের প্রথমার্ধের যেকোনো দিন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বলা হয়, এপ্রিলের প্রথমার্ধে নির্বাচন হলে একদিকে আবহাওয়ার সংকট এবং অন্যদিকে রমজানের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা ও কার্যক্রম এমন এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে যা নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এছাড়া ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান কেন সম্ভব নয়, এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় অর্জিত হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানে অহেতুক বিলম্বে জনগণকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। এই সভা রমজান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমপর্যায়ের পরীক্ষা এবং আবহাওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করছে। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী সরকার একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কথা বললেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সিংহভাগ রাজনৈতিক দলের মতামত অগ্রাহ্য করে নিজেদের নিরপেক্ষতাকেই যেভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, তাতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে দেশের জনগণ সঙ্গতভাবেই শংকিত হতে পারে বলে সভা মনে করে।

জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া ভাষণ পর্যালোচনা করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে এই অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে যে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তাঁর বক্তব্য প্রসঙ্গকে অতিক্রম করে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পরিণত হয়েছে। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি বন্দর, করিডর ইত্যাদি এমন সব বিষয়ে অবতারণা করেছেন যা তাঁরই ভাষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩টি ‘ম্যান্ডেটের’ মধ্যে পড়েনা। ভাষণে তিনি শব্দ চয়নে রাজনৈতিক ভব্যতার সীমা অতিক্রম করায় সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

]]>
https://bbangla.net/2025/06/07/%e0%a6%a1%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be/feed/ 0
চট্টগ্রামে মাঝপথে একুশের আবৃত্তি অনুষ্ঠান বন্ধ, শিল্পীকে হেনস্তার অভিযোগ https://bbangla.net/2025/02/21/%e0%a6%9a%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/ https://bbangla.net/2025/02/21/%e0%a6%9a%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/#respond Fri, 21 Feb 2025 14:22:27 +0000 https://bbangla.net/?p=2377 চট্টগ্রামে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি আবৃত্তি অনুষ্ঠান মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে চট্টগ্রাম আবৃত্তি সম্মিলন।

একটি কবিতায় বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণের পর জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) নেতা-কর্মীরা গিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। এ সময় এমন কবিতা পড়ার জন্য এক আবৃত্তিশিল্পীকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ।

জাসাসের নগর সভাপতি মুসা বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে। মামুনুর রশিদ প্রথম আলোর কাছে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চলছিল। তাই আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। প্রশাসন অনুষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে।’

চট্টগ্রাম আবৃত্তি সম্মিলন প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি সকালে শহীদ মিনারের পাশে টিঅ্যান্ডটি কার্যালয়ের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে আসছে। চট্টগ্রামের প্রায় ২০টি সংগঠন এতে যোগ দেয়। এবারও আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ওই স্থানে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এতে বিভিন্ন সংগঠনের আবৃত্তিশিল্পীরা কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। পাশাপাশি গান ও কথামালাও চলছিল।

আয়োজকদের মধ্যে কয়েকজন জানান, বেলা পৌনে ১১টার দিকে এক আবৃত্তিশিল্পী কবি রবিউল হুসাইনের ‘এক সেকেন্ডে মাত্র চার ফুট’ কবিতাটি পড়ছিলেন। এই কবিতার কয়েকটি লাইনে বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা, একাত্তর, সাতই মার্চ, মাওলানা ভাসানী ইত্যাদি শব্দ ছিল। এই লাইনগুলো পড়ার পর মঞ্চের উল্টো পাশে পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে জাসাসের নেতা-কর্মীরা এসে প্রতিবাদ জানান। যিনি কবিতাটি পড়ছিলেন, তাঁকে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ক্ষমা চাইতেও বাধ্য করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে আয়োজকদের অন্যতম নরেন আবৃত্তি একাডেমির মিশফাক রাসেল বলেন, ‘ওই শিল্পী এমন কবিতা পড়বেন, আমরা জানতাম না। ওই কবিতার কয়েকটি লাইনের কারণে কয়েকজন এসে প্রতিবাদ জানান। এরপর অনুষ্ঠান মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়।’

জানতে চাইলে জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘তারা পতিত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করছিল। কবিতায় তারা বলছিল একাত্তর ভুলে গেছি, মুক্তিযুদ্ধ ভুলে গেছি। তাই আমরা প্রথমে তাদের নিষেধ করেছি। পরে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এরপর যে ছেলেটি কবিতা পড়ছিল, সে ক্ষমা চেয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ছেলেটাকে হেনস্তা করা হয়েছে কি না, আমি দেখিনি। আমাদের পরে পুলিশ প্রশাসন অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করে।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওখানে একটা অনুষ্ঠানে আবৃত্তির মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানের নাম বলেছে বলে আমাদের জানানো হয়। পরে আমাদের ভ্রাম্যমাণ দল ওখানে গেছে। ততক্ষণে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।’

উল্লেখ্য, এর আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সিআরবিতে বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠানের অনুমতি মাঝপথে বাতিল করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

]]>
https://bbangla.net/2025/02/21/%e0%a6%9a%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d%e0%a6%aa%e0%a6%a5%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b0/feed/ 0
হেলাল হাফিজ: ‘নিঃসঙ্গ’ কবির শেষ বিদায়ে সঙ্গী ভালোবাসা https://bbangla.net/2024/12/14/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%95%e0%a6%ac/ https://bbangla.net/2024/12/14/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%95%e0%a6%ac/#respond Sat, 14 Dec 2024 13:05:06 +0000 https://bbangla.net/?p=2150 নিঃসঙ্গতাকে ভালোবেসে যাওয়া কবি হেলাল হাফিজের বিদায় মুহূর্তটা আর জনহীন থাকল না। ফুলে ফুলে ঢেকে গেল কফিন, চোখের পানি ফেললেন কেউ কেউ। ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় বিদায় জানানো হলো প্রিয় কবিকে।

রাষ্ট্রের উপদেষ্টা, সচিব, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তারাও এসেছিলেন কবিকে বিদায় জানাতে। ছিলেন সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও।

শনিবার সকাল ১১টায় কবির মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়; তার প্রথম জানাজাও হয় সেখানে। জানাজা পড়ান কবির বড় ভাই দুলাল আবদুল হাফিজ।

পরে বাদ জোহর জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় দফা জানাজার পর তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সেখানে বিকাল ৪টায় তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

হেলাল হাফিজের বড় ভাই দুলাল আবদুল হাফিজ বলেন, “ও তো নিঃসঙ্গ জীবনটা খুব পছন্দ করতো। আমি এবং আমার স্ত্রী তাকে বিয়ের ব্যাপারেও অনেক চেষ্টা করেছি। দেখলাম, সে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না। পরে অভিমান করে বলল, বাসায় আর থাকবে না।

“সে নিজেই এই একাকিত্বের জীবন বেছে নিয়েছিল। আমরা চেষ্টা করেছিলাম- তাকে সংসারী করতে। সে আগ্রহী হয়নি। অবশেষে ওর বিদায়টাও হলো একাকী। আমরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেছি। সে চায়নি। বলা যায়, সে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েই ছিল।”

অকৃতদার হেলাল হাফিজের জীবনের শেষ দিনগুলো কাটছিল ঢাকার শাহবাগের সুপার হোম নামের এক হোস্টেলে। শুক্রবার দুপুরে বাথরুমে পড়ে গেলে তার মাথায় রক্তক্ষরণ হয়। পাশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হেলাল হাফিজের একাকী জীবনের কথা উঠে এল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের কথাতেও। তিনি দীর্ঘদিন হেলাল হাফিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

হাসান হাফিজ প্রেস ক্লাবে বলেন, “আমার পিতৃপ্রদত্ত নাম কিন্তু হাফিজ না। আমার এই নামটি হেলাল হাফিজের দেওয়া।”

প্রেস ক্লাব ও হেলাল হাফিজ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা সবাই চেষ্টা করেছি তাকে সংসারী করতে। কিন্তু সেটি হয়নি।

“আমরা প্রেস ক্লাব থেকে হাসপাতালে কথা বলে তাকে ভর্তির ব্যবস্থাও করেছিলাম। পরে ডাক্তার এসে দেখেন, রোগী হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। তিনি এমনই ছিলেন।”

হাসান হাফিজ বলেন, ‘‘আমার কবি হিসেবে যতটুকু অর্জন,তার পেছনে উনার বড় অবদান আছে। আমি ভারাক্রান্ত… আসলে আমি আহত হয়েছি।

‘‘…অসাধারণ একটা মানুষ ছিলেন তিনি। কোমল হৃদয়ের মানুষ এই কবি। উনি বেঁচে থাকবেন উনার লেখার মধ্য দিয়ে। প্রেম ও দ্রোহের এবং বাংলাদেশে যে একটা নতুন বিনির্মাণের স্বপ্ন আমরা দেখছি, সেই প্রত্যয়ের অঙ্গীকারে হেলাল হাফিজের কবিতা আমাদের উজ্জীবিত করেছে স্বাধীনতার মন্ত্রে, উজ্জীবিত করেছে প্রগতির আন্দোলনে, সহায়তা করেছে।”

প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে হেলাল হাফিজকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ অনেকে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে হেলাল হাফিজকে বিদায় জানাতে এসেছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম (বীরপ্রতীক)। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম, পরিচালক সরকার আমিনসহ অনেকেই ছিলেন সেখানে।

এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাব, জাতীয় কবিতা পরিষদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন বলেন, “হেলাল হাফিজ একাকী জীবন বেছে নিয়েছিলেন। এ জীবন একান্তই তার।

“এমন জীবন নিয়ে আমরা আক্ষেপ করলেও তিনি খুব একটা আক্ষেপ করতেন বলে আমি মনে করি না।”

কবিকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর এক প্রশ্নে ফারুকী বলেন, “তিনি অগণিত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন। একটা কবিতার বই লিখেই এমন বিপুল পাঠকের ভালোবাসা পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।

“আমি যতটুকু জানি, উনি স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক পাননি। তার অনেক লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। সেখানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কিছু করার থাকলে আমরা করব।”

নেত্রকোণায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে কবিতা চেনার আগেই হেলাল হাফিজকে চিনেছেন তরুণ রাসেল হাসান। এবার এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে রাসেল হাসান বলেন,“উনি এলাকায় যেতেন না। কিন্তু উনাকে তো সারা দেশের মানুষ চিনতেন। ছোটবেলা থেকেই কবি হিসেবে উনার নাম শুনেছি।

“স্কুলে পড়ার সময় উনার কবিতা পড়েছি। আর নাইনে পড়ার সময় থেকে হেলাল চাচার সঙ্গে দেখা হয়েছে। উনি আমাকে স্নেহ করতেন, দেখা করতে বলতেন।”

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে হেলাল হাফিজের ছোট ভাই নেহাল হাফিজ জানালেন, হেলাল হাফিজের কবিতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেও কবিতা লেখা শুরু করেন।

নেহাল হাফিজ,“পারিবারিকভাবে বড় ভাইকে আমি বলতাম রাঙা দা। আর হেলাল ভাইকে বলতাম সোনা দা। আমার লেখা কিছু কবিতা হেলাল ভাইকে দেখাতে গিয়েছি।

“উনি তখন অনেক কথা বললেন, এর মধ্যে একটা কথা ছিল- ‘জীবন খরচ করে কবিতা লিখতে হয়’। হেলাল ভাই তো শখে নয়, জীবন খরচ করেই কবিতা লিখেছেন।”

প্রেস ক্লাবে শ্রদ্ধা জানাতে এসে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন,“আমাদের অনেক আন্দোলন সংগ্রামে হেলাল হাফিজের কবিতা দিয়ে স্লোগান তৈরি হয়েছে। ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ এই লাইন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।

“তিনি নিভৃত জীবন কাটালেও কবিতা তাকে বর্ণাঢ্য এক জীবন দিয়েছে। তিনি লাখো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।”

হেলাল হাফিজ সবশেষ যে হোস্টেলে থাকতেন, সেই সুপার হোমের আরেক কক্ষের বাসিন্দা রূপম রোদ্দুর বলেন, “জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাদ যোহর দ্বিতীয় জানাজার পর হেলাল হাফিজের মৃতদেহ নিয়ে আসা হয় বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। পরে ৪টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।

]]>
https://bbangla.net/2024/12/14/%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%83%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%95%e0%a6%ac/feed/ 0