মতামত – BBangla.net https://bbangla.net বাঙালীর কথা বলে Wed, 15 Jan 2025 15:01:02 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.0 https://bbangla.net/wp-content/uploads/2024/09/cropped-Fev-bbangla-32x32.png মতামত – BBangla.net https://bbangla.net 32 32 পাকিস্তানে দুর্লভ সফরে বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা https://bbangla.net/2025/01/15/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ad-%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ac/ https://bbangla.net/2025/01/15/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ad-%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ac/#respond Wed, 15 Jan 2025 15:01:02 +0000 https://bbangla.net/?p=2250 (১৫ জানুয়ারি) পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, অনেক বছর পর এ সফরের মাধ্যমে কোনো শীর্ষ বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা ইসলামাবাদে পা রাখলেন।

পত্রিকাটি আরও জানায়, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেকটাই অচলাবস্থায় ছিল। ওই সময়ে বারবার পাকিস্তানের শান্তি উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল হাসিনা সরকার। তবে গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যূত্থানে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মাত্রা পেয়েছে। আগের গুমোট পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসানের এ সফরকে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবেও অভিহিত করেছে পত্রিকাটি।

পাকিস্তান সফরে লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামর-উল-হাসান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির এবং চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটি (CJCSC) জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সঙ্গে বৈঠক করেন।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটি পড়তে ক্লিক করুন এখানে

এদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ (আইএসপিআর)-এর বিবৃতি অনুসারে, ওই বৈঠকে উভয় কর্মকর্তা এ মর্মে একমত হয়েছেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভাতৃপ্রতিম দেশ। বহিঃস্থ শক্তির প্রভাব থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক অবশ্যই দৃঢ় থাকবে।

এছাড়াও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আদান-প্রদান, সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের মাত্রাবৃদ্ধির ব্যাপারেও আলোচনা করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশের পিএসও।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেন, দুই দেশের প্রতিরক্ষাবাহিনীর মধ্যকার সহযোগিতাপূর্ণ বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপের মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সুরক্ষা সম্ভব। পাকিস্তান-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপমহাদেরশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার জন্য খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামর-উল-হাসান পাকিস্তানের সেনাবাহনীর পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে বলেন, সন্ত্রাসবাদ দমনের লড়াইয়ে ব্যাপক আত্মদানের মাধ্যমে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিজেকে সাহস এবং দৃঢ় সংকল্পের বাতিঘরে পরিণত করেছে।

]]>
https://bbangla.net/2025/01/15/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%ad-%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ac/feed/ 0
প্রত্যাবর্তন/ কামাল হোসেন মিঠু https://bbangla.net/2025/01/10/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%87/ https://bbangla.net/2025/01/10/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%87/#respond Fri, 10 Jan 2025 20:26:18 +0000 https://bbangla.net/?p=2234 নিঃসঙ্গ মুনিয়া কাঁদে প্রাণের ভিতর। অন্তর পুড়ে কাঠ কয়লা পঙ্খীর ডানায় তবু আকাঙ্ক্ষার পালক। পাখির নাম দিয়েছি প্রত্যাবর্তন। পাখি নীড়ে ফিরতে চায়। সবুজ পাতায় গড়া গৃহকোন তাকে ডাকে। পঙ্খী তড়পায়। জল চায়, হাওয়া চায়, ওড়বার অবারিত আকাশ। ও আমার পরাণের পাখি, তোর মতোই প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশায় কেঁদেছিল নাকি জনকের প্রাণ? সুবিশাল বক্ষজুড়ে উঠেছিলো মেঘনার ঢেউ? সেই জলে ছায়া পড়েছিলো কার? চিরচেনা প্রিয় বাংলার?

আমার পিতা ছিলেন একজন সাহসী মানুষ। শত্রুর চোখে স্থির দৃষ্টি রেখে তিনি গেয়েছিলেন শেকল ভাঙার গান।

বন্দীশালার অন্ধকার? না।

একাকিত্বের হিংস্রতা? না।

মৃত্যুর চোখ রাঙানি? না। একদম না। এসব কিছুই তাঁকে ভীত করেনি।

যার বুকে জ্বলে সাতকোটি আস্থার আলো তাঁকে কে দমায়? জয়-বাংলায় দৃপ্ত যে চোখ তাঁকে কে থামায়? ওরা ভেবেছিলো শেখ মুজিবুর রহমান শুধুই একটি নাম। ওরা ভেবেছিলো দীর্ঘ বন্দীত্বের আড়ালে হারিয়ে যাবে মানুষটি। ওরা বুঝতে পারেনি বন্দীশালায় আটকে রাখা যায় একটি মানুষকে, একটি দেশকে নয়। ওরা আমার জনককে নয়, বন্দী করেছিলো তাঁকে যার বুকে ছিলো বাংলাদেশ নামক একটি গোটা দেশ। চারদেয়ালের সাধ্য কি বাংলাদেশকে বন্দী করে রাখে।

আমার পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। হ্যাঁ, আমি বলছি। আমার সাহসী পিতার বুকেও কেঁদেছিল প্রত্যাবর্তনের পাখি। তবে সেই প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশা তাঁকে দুর্বল করেনি।

জলে ভেজা খুব প্রিয় একজোড়া চোখ তাঁকে বলেছিলো, জয়ী হয়ে ফিরে এসো, আমি অপেক্ষায় থাকবো।

সন্তানের উষ্ণতা আলিঙ্গন করে বলেছিলো- ফিরে এসে চতুর শেয়ালের জব্দ হওয়ার গল্পটা শোনাবে কিন্তু।

ঘরের দাওয়ায় অপেক্ষমান পিতামাতা শূন্যে হাত বাড়িয়ে বলেছিলো, তুইই আমার সাহস। ফিরে আয়। একসাথে ভাত খাবো।

সাতকোটি বাঙালি বলেছিলো, যার যা আছে সবটুকু পুঞ্জি করে কিনেছি বাংলা। আর কিছু নাই তুমি ছাড়া। ফিরে এসো আমার মুজিব। ভরসা আমার, ফিরে এসো।

আমার পিতা ফিরে এসেছেন। আমার বীর ফিরে এসেছেন। আমার নেতা, আমার আস্থা ফিরে এসেছেন। মুজিব ফিরেছে স্বদেশের বুকে। মুজিব নয়। মুজিব নয়। বাংলাদেশের মাটিতে দৃপ্ত পায়ে হেঁটে ফিরেছে স্বয়ং স্বদেশ।

আমার জনকের নাম শেখ মুজিবুর রহমান। আমি তাঁর গর্বিত সন্তান। পিতা আমাকে শিখিয়েছেন কেমন করে ফিরতে হয়। কেমন করে প্রত্যাবর্তন নামক পাখিটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হয় প্রাণের ভেতর। আমার মুজিব আমাকে শিখিয়েছেন ফিরতে হলে ফেরার মতো ফিরবি, শিরদাঁড়া টান টান করে ফিরবি।

আমার প্রত্যাবর্তন নামক পাখিটিও বড় ছটফটায়। আমিও ফিরবো। জয়-বাংলা ধ্বনি তুলে পিতার ভিটায় ফিরবো। পাখি খুঁজে পাবে নীড়। খুঁজে পাবে সবুজ পাতার আশ্রয়, আর উড়ে বেড়ানোর এক টুকরো চিরচেনা বিশ্বাসী আকাশ।

]]>
https://bbangla.net/2025/01/10/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%87/feed/ 0
ইউনুস সরকারের চার মাসের হিসাব নিকাশ https://bbangla.net/2024/12/15/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9/ https://bbangla.net/2024/12/15/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9/#respond Sun, 15 Dec 2024 10:20:07 +0000 https://bbangla.net/?p=2156 ইউনুস সরকারের চার মাসের হিসাব নিকাশ
সৈয়দ ইফতেখার হোসেন

৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অসাংবিধানিক ইউনুস সরকার চার মাস পার করল। জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্য এবং সামগ্রিক নৈরাজ্যের পাশাপাশি দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা ইউনুসের দোসরদের ধর্মীয় উন্মদনা সৃষ্টি করে রক্তক্ষয়ী সাম্প্রদায়িক সমস্যার তৈরি, যার প্রধান শিকার সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মের মানুষ। তাদের দুর্দশার প্রতি ইউনিসের সরকারের উদাসীনতা বাংলাদেশের ইতিহাসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলে যায়। প্রধান উপদেষ্টা ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতনের তেমন প্রমাণ তাঁর কাছে নেই।

বলার অপেক্ষা রাখে না বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। আইনের শাসন গত চার মাসে তলানিতে ঠেকেছে। আটক রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, এমনকী সাংবাদিকরা। বিএনপি-জামায়াত আইনজীবীদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় তারা আদালতে জামিনের আর্জি জানাতে যেতে পারছেন না। রায় পছন্দ না হলে বিচারপতিকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হচ্ছে। ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণের জন্য কোনও আইনজীবী মামলা লড়তে ভয় পাচ্ছেন।

বিগত চার মাসে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে, বিশেষ করে সনাতন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের কারণে। বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়াতে ভারত কড়াকড়ি বহাল রেখেছে। কলকাতার কোনও কোনও হাসপাতালে এরই মধ্যেই বাংলাদেশিদের চিকিত্সা দিতে অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশও ভারতীয়দের জন্য ভিসা প্রদান সীমিত করেছে। ভারতের কোনও কোনও জেলায় হোটেলগুলোতে বাংলাদেশিদের থাকার জায়গা হচ্ছে না।

অন্য দিকে যে দেশটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা আর তিন লাখ মা বোনের সম্ভ্রমহানী করেছে সেই পাকিস্তানকে ইউনুস বুকে টেনে নিয়েছেন। পাকিস্তানিদের জন্য ভিসা প্রাপ্তি সহজ করেছে। এরফলে বাংলাদেশে পাকিস্তান, তাদের পাশের প্রতিবেশী তালেবানি রাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে জঙ্গি আমদানি সহজ হল।

বিগত চারমাসে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, ইউনুসের একমাত্র যোগ্যতা তিনি মনেপ্রাণে আওয়ামী লিগ ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। এমন সব অদূরদর্শী ব্যবস্থার কারণে ইউনুস এবং তার উপদেষ্টারা বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, এই অসাংবিধানিক সরকারের মেয়াদ কতদিন? জামায়াতে ইসলামি চায় ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার নির্বাচিত সরকারের বাকি মেয়াদ শেষ করুক। তারা নিঃশব্দে তাদের অনুগামীদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছে। দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি তাদের দখলে। আমলাতন্ত্র তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। চারদিকে চলমান নৈরাজ্যের সুযোগ নিয়ে জামায়াত ক্রমশ তাদের অবস্থান সুসংহত করছে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত সবকিছু থেকে বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মকে বিচ্ছিন্ন করার একটি জোরালো কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা ব্যস্ত। এই ব্যাপারে তাদের সার্বিক সহায়তা করছে ইউনুস সরকার।

দেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপি, যারা আওয়ামী লিগ বিহীন একটি ভোট হলে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের একটি রোড ম্যাপ চায়। তারা ২০০৬ সাল থেকে ক্ষমতার বাইরে। বাম দলগুলি এ ব্যাপারে তেমন একটা সরব নয় কারণ তারা কখনও এই দেশে কোনও নির্বাচনে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা দেখে না। জামায়াত যেমন ইউনুস বা বিএনপির কাঁধে চড়ে ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছে

বিগত চার মাসে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের ইতিহাসকে মুছে ফেলার অভিপ্রায় বাস্তবায়নে খুবই সচেষ্ট। সরকারের পৃষ্ঠপোষকরা সংবিধান থেকে জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ মুছে ফেলতে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সরকারের এক উপদেষ্টা যাঁকে ইউনুস গণ অভ্যুত্থানের মাস্টার মাইন্ড বলেছেন, সেই মাহফুজ আলমের কথায় বঙ্গ ভবন থেকে শেখ মুজিবুরের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোভিডের সময় বাদে দেশে এই প্রথমবারের মতো সরকারিভাবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে না। সামরিক কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছে। কোন আলোচনা অনুষ্ঠান হবে না।

দেশজুড়ে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দূর্বিষহ করে তুলেছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি প্রায় ১৪ শতাংশে উপনিত হয়েছে এই চার মাসে। পথে ঘাটে মানুষ বলছে ‘আগেই ভাল ছিলাম’। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে চার মাসে কয়েক লাখ মানুষ বেকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। নতুন বিনিয়োগ নেই। দেশ ছাড়ছে বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা চলমান। শিক্ষকেরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষকরে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। চার মাসে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই সাতটি কলেজ বন্ধ হয়েছে। ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

দেশের মিডিয়া পোষ্যের মতো আচরণ করছে। ‘মব জাস্টিস’-এর আতঙ্ক থেকে মুক্ত নয় মিডিয়াও। দেশের প্রথমসারির দৈনিক ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো’কে আওয়ামী লিগপন্থী এবং ভারতপন্থী বলে অভিযুক্ত করে উন্মত্ত জনতা আক্রমণ করেছে একাধিকবার। অথচ এই দুটি পত্রিকা সব সময় শেখ হাসিনা সরকারের বড় সমালোচক ছিল। কয়েক ডজন সাংবাদিক হয় কারাগারে বা হত্যা মামলার আসামি হয়ে পলাতক। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের মিডিয়া বিশ্বের সবচেয়ে আতঙ্কগ্রস্থ সংবাদমাধ্যম। সম্পাদকরা ভয়ে কুঁকড়ে থাকেন।

রাজনীতি ও ইতিহাসের বিচারে বাংলাদেশ ৫ আগস্ট থেকে অন্ধকারে নিমজ্জিত। মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক কাঠামোগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কেউ কখনও এ ধরনের নাশকতার নিন্দা পর্যন্ত করেনি। পরিবর্তে, ইউনুস সরকারের ইতিহাস-বিরোধী পদক্ষেপ অকল্পনীয়।

গত চার মাসে ইউনুসের অন্যতম কীর্তি হল নিজের বিরুদ্ধে থাকা করফাঁকির মামলা এবং ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের হকুম থেকে অব্যাহতি পাওয়া, ২০২৯ পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংককে করমুক্ত ঘোষণা করা। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ট্রাস্টের উপর কর ধার্য করেছেন। এটি তার প্রতিহিংসার এক ন্যক্কারজনক নজির হয়ে থাকবে। ১৮ জুলাই থেকে ৮ আগষ্ট দেশে সব ধরনের হত্যাকা্লের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের দায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারণ যারা এই সব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরাই তাঁকে ক্ষমতায় বসিয়েছে।

বাংলাদেশের সার্বিক সংকট বর্তমানে দেশটিকে এক ভয়াবহ বির্পযয়ের সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি চলমান থাকলে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশ অচিরেই হয়ে যেতে পারে সিরিয়া, সোমালিয়া অথবা আফগানিস্তান। এরই মধ্যে দেশে হিযবুত তাহরির, আনসারউল্লাহ বাংলা টিম, হুজি, আইসিসের মতো সংগঠন সরকারি পৃষ্টপোষকতায় তাদের ভীত পাকাপোক্ত করেছে।

ইউনুসের অসাংবিধানিক সরকারের চার মাস পরেও আরেকটি বাস্তবতা আছে যা উপেক্ষা করা যায় না। সংবিধান অনুযায়ী শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে সেনাবাহিনী তাঁকে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়নি। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নিজ পদে ইস্তফা দিলে সাংবিধানিকভাবে সংসদের স্পিকার পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী আগেই ইস্তফা দিয়েছেন। ডেপুটি স্পিকার কারাগারে। পরিস্থিতি বেশ জটিল।

এরই মধ্যে ইউনুস ও তাঁর পারিষদদের বিরুদ্ধে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জোরপূর্বক অসংবিধানিকভাবে একটি দেশের নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগের নিষ্পত্তি হলে ড. ইউনুসের জীবনের আর একটি ধূসর অধ্যায়ের যাত্রা শুরু হতে পারে। বিপদে পড়তে পারেন তাঁর দোসররা। ইউনুসের শাসনের চার মাসের মাথায় দেশের মানুষের শান্তির আকুতি অতীতের তুলনায় অনেক জোরালো।

লেখক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। মতামত ব্যক্তিগত।

]]>
https://bbangla.net/2024/12/15/%e0%a6%87%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b8-%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b9/feed/ 0
চিন্ময় দাস ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি https://bbangla.net/2024/11/26/%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4/ https://bbangla.net/2024/11/26/%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4/#respond Tue, 26 Nov 2024 12:06:13 +0000 https://bbangla.net/?p=2116 চিন্ময় দাস ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি জারি করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হিন্দুসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার ও জামিন নাকচ করার বিষয়টি আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছি। বাংলাদেশে চরমপন্থিদের দ্বারা হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলার পরে এই ঘটনা ঘটলো।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাশাপাশি চুরি ও ভাঙচুর, দেবতা এবং মন্দির অবমাননার একাধিক নথিভুক্ত ঘটনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে, এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, অন্যদিকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে নিজেদের বৈধ দাবিগুলো তুলে ধরায় একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এতে হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

]]>
https://bbangla.net/2024/11/26/%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a4/feed/ 0
দাম কমাও,জান বাঁচাও https://bbangla.net/2024/10/15/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%93/ https://bbangla.net/2024/10/15/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%93/#respond Tue, 15 Oct 2024 17:07:52 +0000 https://bbangla.net/?p=1962 নানা কারণে আয় কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন চলছে না। নিত্যপণ্যের দামে মানুষ দিশাহারা। কম খেয়ে বেঁচে থাকা সাধারণ মানুষ বাজারে যাওয়ার পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কখনো কখনো দু-একটি পণ্য সরবরাহের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হলেও বাজারে পণ্যের অভাব নেই। অথচ ‘বেচা-কেনা’ কমে গেছে।

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজির পতন হয়নি। সিন্ডিকেট বহাল আছে। চাঁদাবাজির ‘দল’, ‘বস’ বদল হয়েছে, হাত বদল হয়েছে, চাঁদাবাজি অব্যাহত আছে। ব্যবস্থা বদল ছাড়া এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না।

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট, অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ব্যবসায়ীদের কাছে বাজার ছেড়ে দেওয়া যাবে না। দুর্নীতি মুক্ত, দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সরকারি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। সিন্ডিকেট ভাঙা, সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ, বাজারে নজরদারি বাড়ানো, রেশন ব্যবস্থা ও ন্যায্য মূল্যের দোকান চালু করতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের জায়গায় খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করতে হবে। প্রয়োজনে গণবণ্টন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

নিত্যপণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের খরচ কমাতে সার, কীটনাশক, পানি, বিদ্যুৎ, ডিজেলের দাম ও পরিবহন খরচ কমাতে হবে। কৃষককে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম ও ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে ‘উৎপাদক সমবায় ও ক্রেতা সমবায়’ গড়ে তুলতে হবে।

এই মুহূর্তে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যক্রম গ্রহণ ও সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বর্তমান ব্যবস্থায় যারা এ ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে সরকার পরিচালনা করছে তাদের কাছে অনুনয়-বিনয়ে কাজ হবে না।

জনগণের সোচ্চার কণ্ঠই সরকারকে তার দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে পারে।

রুহিন হোসেন প্রিন্স: সিপিবির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক

]]>
https://bbangla.net/2024/10/15/%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%95%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%93/feed/ 0