জাতীয় জেল পালানো দুর্ধর্ষ বন্দিসহ ৭২৮ জন এখনো অধরা। বিবাংলা ডেস্ক 10 months আগে বিবাংলা ডেস্ক 10 months আগে 0 মন্তব্য 121 views 121 ২০২০ সালের ২৫ জুন শরীয়তপুরের জাজিরায় কিশোর শাকিল মাদবরকে অপহরণ করে সাকিব ওরফে বাবু ও তার সহযোগীরা। পূর্ব নাওডোবা হাজী কালাই মোড়লের কান্দিগ্রামের বাসিন্দা শাকিল ছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরপর দাবি করা মুক্তিপণ না পাওয়ায় শাকিলকে হত্যা করে মরদেহ নির্মীয়মাণ রেল সেতুর পাশে পুঁতে রাখে অপহরণকারীরা। ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় বাবুকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। এর পর থেকে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি রাখা হয়। গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের দিন ওই কারাগার আক্রমণের শিকার হয়। এই সুযোগে পালিয়ে যায় দুর্ধর্ষ খুনি বাবু। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ) তাকে গ্রেপ্তার করে। এটিইউয়ের কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল জানান, গত বছরের ৬ আগস্ট কারাগার থেকে পালানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে। গ্রেপ্তার বাবুকে কোনাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৬৩ জনসহ ৭২৮ জন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পলাতক এই বন্দিরা এখন নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৮ জন গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। কারাগারটির সিনিয়র জেল সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, এই কারাগার থেকে মোট ২০২ জন পালিয়েছিল। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ৮৮ জন, সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন এবং বিচারাধীন ১০৩ জন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ৪৪ জন, সাজাপ্রাপ্ত বন্দি আটজন, বিচারাধীন বন্দি ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কারা সূত্র জানায়, গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের ১৭টি কারাগার আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়া, নরসিংদী, শেরপুর, সাতক্ষীরা ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যায় দুই হাজার ২৪৭ জন বন্দি। গত এক বছরে এদের মধ্যে এক হাজার ৫১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে ৭২৮ জন। সূত্র আরো জানায়, এসব দাগি আসামিকে ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদের কেউ কেউ ভারতে পালিয়ে গেছে, অনেকে দেশেই আত্মগোপনে রয়েছে, কয়েকজন মারাও গেছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব অপরাধী বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা। কোনো কোনো গোষ্ঠীর হয়ে অপরাধ করতে পারে তারা। এসব কারণে পলাতক বন্দিদের খুঁজে পেতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা। এসব বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল ফরহাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পলাতক আসামিদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এসব আসামি ধরতে বিভিন্ন সময়ে তথ্য দিয়ে আমরাও সহযোগিতা করে থাকি।’ শেয়ার 0 FacebookTwitterPinterestEmail আরো পড়ুন ‘আগামী নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারে-সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন 3 months আগে ‘অনুপস্থিতি আমার নীরবতা নয়, খুব দ্রুতই ফিরব, মাথা উঁচু করে দেশে গণতান্ত্রিক... 3 months আগে দ্য পেপার ট্রেইল: ওয়াশিংটন কীভাবে ৩২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করে বাংলাদেশের... 4 months আগে হামের টিকা ইস্যু, ড. ইউনূসসহ ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ 4 months আগে জ্বালানি সংকট, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে রাজধানীবাসীর 4 months আগে মহান স্বাধীনতা দিবস আজ 5 months আগে Add new comment একটি মন্তব্য লিখুন ক্যান্সেল রিপ্লাই Save my name, email, and website in this browser for the next time I comment.
২০২০ সালের ২৫ জুন শরীয়তপুরের জাজিরায় কিশোর শাকিল মাদবরকে অপহরণ করে সাকিব ওরফে বাবু ও তার সহযোগীরা। পূর্ব নাওডোবা হাজী কালাই মোড়লের কান্দিগ্রামের বাসিন্দা শাকিল ছিল অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরপর দাবি করা মুক্তিপণ না পাওয়ায় শাকিলকে হত্যা করে মরদেহ নির্মীয়মাণ রেল সেতুর পাশে পুঁতে রাখে অপহরণকারীরা। ওই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় বাবুকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
এর পর থেকে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি রাখা হয়। গত বছর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের দিন ওই কারাগার আক্রমণের শিকার হয়। এই সুযোগে পালিয়ে যায় দুর্ধর্ষ খুনি বাবু। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট (এটিইউ) তাকে গ্রেপ্তার করে।
এটিইউয়ের কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মাহফুজুল আলম রাসেল জানান, গত বছরের ৬ আগস্ট কারাগার থেকে পালানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় মামলা করে। গ্রেপ্তার বাবুকে কোনাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরো তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৬৩ জনসহ ৭২৮ জন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি।
পলাতক এই বন্দিরা এখন নিরাপত্তার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আইজিপি বাহারুল আলম জানিয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৮ জন গাজীপুরের কাশিমপুরের হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যায়। কারাগারটির সিনিয়র জেল সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে জানান, এই কারাগার থেকে মোট ২০২ জন পালিয়েছিল। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ৮৮ জন, সাজাপ্রাপ্ত ১১ জন এবং বিচারাধীন ১০৩ জন।
এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ৪৪ জন, সাজাপ্রাপ্ত বন্দি আটজন, বিচারাধীন বন্দি ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। কারা সূত্র জানায়, গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের ১৭টি কারাগার আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়া, নরসিংদী, শেরপুর, সাতক্ষীরা ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যায় দুই হাজার ২৪৭ জন বন্দি। গত এক বছরে এদের মধ্যে এক হাজার ৫১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে ৭২৮ জন। সূত্র আরো জানায়, এসব দাগি আসামিকে ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদের কেউ কেউ ভারতে পালিয়ে গেছে, অনেকে দেশেই আত্মগোপনে রয়েছে, কয়েকজন মারাও গেছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব অপরাধী বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা। কোনো কোনো গোষ্ঠীর হয়ে অপরাধ করতে পারে তারা। এসব কারণে পলাতক বন্দিদের খুঁজে পেতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা। এসব বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) জান্নাত-উল ফরহাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পলাতক আসামিদের ধরতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এসব আসামি ধরতে বিভিন্ন সময়ে তথ্য দিয়ে আমরাও সহযোগিতা করে থাকি।’