তখন সম্ভবত দুপুর ১২ টা, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হঠাৎ করেই নেমে এলো বিষাদের ঘনঘটা। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সংগঠিত ৪০০০-৫০০০ জুলাই জ*ঙ্গি এনায়েতপুর থানায় চালায় ব’র্বর হা’মলা। চোখের সামনে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় আইনের প্রতীক একটি থানা- লু’টপাট, অ’গ্নিসংযোগ আর কু/পিয়ে পৈ’শাচিক ভাবে হ/ত্যা করা হয় ১৫ পুলিশ সদস্যকে।
নি’হত ১৫ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এনায়েতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক- নিষ্ঠা ও সততার এক নীরব যোদ্ধা।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে তার বদলি হয়েছিল টাঙ্গাইল জেলায়। খুশি ছিলেন পরিবারসহ সবাই। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে ছুটিতে বাড়ি ফিরতেও চেয়েছিলেন। বাড়িতে ঠিকই ফিরলেন আবদুর রাজ্জাক- তবে লা/শ হয়ে। জুলাই জ*ঙ্গিদের হা*মলায় ক্ষ’ত-বি’ক্ষ’ত ও অ’গ্নিদ’গ্ধ যে লা’শ দেখে আবদুর রাজ্জাককে চিনতেও পারেন নি তার গ্রামবাসী, আত্নীয়-স্বজন ও পরিচিতজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শালিমডোলপাড়া গ্রামে জন্ম আবদুর রাজ্জাকের। ছিলেন আট ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল তার। সন্তানও ছিল না। পরিবার পরিজন ও থানায় আগত সেবা প্রত্যাশীদের সেবা করাই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান।
ঢাকায় কর্মরত তার ছোট বোন মাউনজেরা আলিফ জানান, ‘ভাইকে ছুটি নিয়ে আসতে বলেছিলাম। বলেছিল, বদলি হয়ে গেলেই আসবে। বদলিও হলো, কিন্তু আমার ভাই এলো কফিনে মোড়া লা/শ হয়ে’।
আবদুর রাজ্জাকের বৃদ্ধা মা রিজিয়া বেগম ছেলের লাশের অপেক্ষায় বারবার দরজার দিকে তাকিয়ে নির্বাক- অশ্রুসিক্ত দুটি চোখ আর কাঁপা ঠোঁট বলে দেয় তার ভেতরের হাহাকার।
ভাই রেজাউল করিম আবদুর রাজ্জাকের লা/শ দেখতে গিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে। তার গায়ে ছিল পেট্রোল ঢেলে আ’গুন ধরানোর চিহ্ন। মাথায় ভারি কিছু দিয়ে কো/পানো হয়েছে।
রেজাউল করিমের মোবাইলে ধারনকৃত আবদুর রাজ্জাকের পো/ড়া মুখ, কা’টা বুক, ঝ’লসে যাওয়া হাত দেখে শোকাবহ পরিবেশে একসঙ্গে চিৎকার করে কান্না শুরু করে তার বৃদ্ধা মা, ভাইবোন ও প্রতিবেশীরা।
হা/মলার সময় থানায় দায়িত্ব পালন করছিলেন প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে আত্মসমর্পণের চেষ্টাও করেন। তবে জ/ঙ্গিরা পুলিশ সদস্যদের আকুতি মিনতি উপেক্ষা করে। প্রাণ বাঁ’চাতে পুলিশ সদস্যদের কেউ থানার ছাদে, কেউ পাশের বাড়িতে, কেউ আবার শৌচাগারে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু সেইখানেই সবাই লাশ হয়ে যায়।
