হলিউড সিগারেট,বড় মামলায় বেনসন। ২য় দিন আদালতে উঠানোর কথা। যেখানে গিয়ে আদালতে রাখা হয় সেই জায়গাটার নাম হলো গারদ। ছোট্ট একটা রুম। গাদাগাদি করে প্রায় ৩০০ জন। বসার কোন সুযোগ নেই। সবাইকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। মুরগীর খাঁচায় যেমন সব মুরগীকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সেরকম। সারাদিন রেখে সেখানে একটা বাটারবন বা পানি দেয়া হয়। একজন শুধু বলে রাখলো ভাই আমরা কি মানুষ না! একটু সম্মান করা যায় না? আসামী কিন্তু এখনো প্রমাণিত আসামী নই। এই একজন এটা বলাতে ৫ জন পুলিশ এই একজনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে। এরপর রাতে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে রাখা হয় আমদানি নামে একটা ডিপার্টমেন্ট এ। সেখানে কাথা বালিশ কিছুই নেই। প্রথম ২৪ ঘন্টা সেখানে রাখা হয়। তারপর সেখান থেকে বিভিন্ন রুমে যাওয়া হয়। সেখানে যাওয়া মাত্রই আপনি যদি কিছু চান প্রত্যেকটার বিনিময়ে আপনাকে খরচ করতে হয়। যেমন আপনার কাথা-বালিশ লাগবে! আপনাকে টাকা দিতে হবে! টাকা দিলে আপনাকে কেনাকাটার পর্যায়ে নেবে। এখনো কেনাকাটা শুরুই হয়নি। এরপর কেনাকাটা যেমন বালিশ চাদর আপনি কিনলেন সেটাও আসবে পরেরদিন। এরপর পাঠিয়ে দেয়া হয় যার যার বিল্ডিং এ। আমদানি থাকা অবস্থায় আপনার অ্যাকাউন্ট যেটা ছিল সেটাতে যদি কিছু ব্যালেন্স থাকে- ধরুন ৩ হাজার টাকা আমদানি লেবেলে আপনার ব্যালেন্স ছিল সেটা সে হলিউড সিগারেট বা ওটার লেবেলে বা বেনসন এর বিনিময়ে এই টাকা টা ট্রান্সফার হবে আপনি যেখানে যাবেন সেখানে। আর যদি আপনি টাকা টা খরচ করতে না পারেন তাহলে সেটাও যাবেনা। তো এভাবেই প্রতিটা পদে সরকারিভাবে লুটতরাজ চলতেই থাকে। দেখভালের কেউ নাই। সাধারণ মানবিক আচরণ কারো সাথেই করা হয়না। অপেক্ষা করুন পরের পর্বের জন্য। অনেক গল্প অপেক্ষা করছে।
কারাগার নামা ০২
১৭৭
