রাজধানীর মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। বিশেষ করে বৃহত্তর মিরপুরের কিছু এলাকায় সারাদিনেও পানি না মেলার অভিযোগ রয়েছে। অগত্যা পানি কিনে জরুরি কাজ সারতে হচ্ছে।
ঢাকা ওয়াসার কাছে গাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য আবেদন করা হলেও চাহিদার চেয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে কম। আবার অনেক এলাকার সাধারণ মানুষ জানেনও না কীভাবে ওয়াসার কাছে পানির জন্য চাহিদাপত্র দিতে হয়।
ঢাকা ওয়াসার মুখপাত্র আব্দুল কাদের সমকালকে বলেন, বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার দৈনিক পানি উৎপাদনের ক্ষমতা কমবেশি ৩০০ কোটি লিটার। চাহিদাও এমনই। তবে শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় পানির চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া সাভারের ভাকুর্তা অয়েলফিল্ড প্রকল্পের কয়েকটি নলকূপ সম্প্রতি ঝড়ের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অয়েলফিল্ডের পানি দিয়ে মিরপুর এলাকায় পানি সরবরাহ করা হতো। এখন অন্য এলাকার গাড়িগুলো মিরপুর এলাকায় স্থানান্তর করে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিছু স্থানে সরবরাহ লাইনে ত্রুটি থাকায় পানি সরবরাহ কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে। গতকাল ঢাকা ওয়াসার শীর্ষ পর্যায় এ নিয়ে বৈঠক করেছে। সেখানে নলকূপগুলো দ্রুত মেরামতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাভারের ভাকুর্তা অয়েলফিল্ড থেকে প্রতিদিন ২৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের কথা থাকলেও বর্তমানে সেখান থেকে ১০-১২ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হচ্ছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং নলকূপগুলোর পানির উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ওয়াসার হিসাব অনুযায়ী পানি উত্তোলন হচ্ছে না। এ জন্য অন্য এলাকায়ও পানির সংকট তৈরি হচ্ছে।
মিরপুর-১ এর ২ নম্বর টোলারবাগের বাসিন্দা আইরিন ইরিন আকতার বলেন, এ এলাকায় পানির অনেক সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মাঝে পাইপলাইনে একটু একটু পানি আসে। কিন্তু কখন পানি আসবে, সেটার জন্য রাত জেগে বসে থাকতে হয়। মিরপুর-১২ নম্বরের ‘ডি’ ব্লকের ১৬ নস্বর রোডের বাসিন্দা খোদেজা আক্তার স্বর্ণা বলেন, এই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আবার মাঝে মাঝে পানি এলেও তা ব্যবহারে অযোগ্য, দুর্গন্ধ ও ময়লাযুক্ত। সেটা গৃহস্থালির কাজে ব্যবহারের মতো না।
মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ১১/১২ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাসিন্দা বাদল রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে এই গলিতে পানির সংকট বেশ প্রকট। প্রতিবছর এ সময় এলেই পানির সংকট তীব্র হয়। ওয়াসার কল সেন্টারে বারবার কল দিলেও পানির রিকুইজিশন নেওয়া হয় না। আবার নিলেও তিন গাড়ির রিকুইজিশন দিলে তিন দিন পর এক গাড়ি পানি পাঠায়। বড় গাড়ি চাইলে দেয় ছোট গাড়ি।
পানি সংকট শুধু মিরপুরে নয়– নর্দ্দা, কালাচাঁদপুর, কুড়িল, মহাখালী, বাইশটেকি, বনশ্রীসহ আরও কিছু এলাকায়ও দেখা দিয়েছে।
কারণ হিসেবে জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসার এক হাজার ৩৩১টি গভীর কলকূপের মধ্যে প্রায় ২০০টি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ। এছাড়া মাঝে মাঝে লোডশেডিংয়ের কারণে বাকি নলকূপের পানি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবশ্য অন্য ছয়টি পানি শোধনাগারের মধ্যে পদ্মা-জশলদিয়া পানি শোধনাগার ছাড়া বাকিগুলোতে উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে জশলদিয়া প্রকল্পের সরবরাহ লাইন কাজ পুরোপুরি তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও সেখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ কোটি লিটার। ঢাকা ওয়াসা বলছে, তেমন বড় সংকট নেই। কয়েক দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
