Friday, March 6, 2026

উত্তরাঞ্চলে সারের কৃত্রিম সংকট: গুদামে মজুত, তবুও কৃষক হাহাকার

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ২৩২ views

উত্তরাঞ্চলে সারের কৃত্রিম সংকট: গুদামে মজুত, তবুও কৃষক হাহাকার

বগুড়া থেকে:

উত্তরাঞ্চলের বগুড়া ও আশেপাশের জেলােগুলোতে আমন ও রবি শস্যের চরম মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারি গুদামে হাজার হাজার টন সার থাকার দাবির পরও মাঠ পর্যায়ের কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। ডিলারদের কাছে গেলেও প্রায়শই ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। অন্যদিকে, খোলা বাজারে সারের দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ফলে কৃষকরা শুধু ফসল উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছেন না, পাশাপাশি তাদের উৎপাদন খরচও বাড়ছে।

 

শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক আবদুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, “ধান রোপণের পর জমিতে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার লাগার সময় যথাযথ সরবরাহ পাচ্ছি না। ডিলারের গুদামে সার থাকলেও তারা ‘নেই’ বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। সামান্য ইউরিয়া জোগাড় করলেও দাম অনেক বেশি।”

বগুড়া সদরের আল আমিনও জানান, “আমার ছয় বিঘা জমির জন্য ১৮০ কেজি সার প্রয়োজন। ডিলারের কাছে গেলেও মাত্র ৩৬ কেজি পেয়েছি। বাকি সার খোলা বাজার থেকেও মিলছে না। যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, আমনের ফলন ও রবি মৌসুমের সবজি চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

কৃষকেরা মনে করেন, এটি একটি কৃত্রিম সংকট, যা সারের বিতরণে সিন্ডিকেট ও সংশ্লিষ্ট অফিসের গাফিলতির ফল।

কৃষি বিভাগ, বিএডিসি ও বিসিআইসি কৃষকদের সঙ্গে একমত নয়। তারা জানান, গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং চলতি আমন ও রবি মৌসুমে কোনো সংকট নেই। কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়া সম্প্রতি বলেন, “আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের কোনো ঘাটতি হবে না।”

সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কিছু কৃষক আগেভাগেই সার মজুত করছেন, যা সাময়িক ঘাটতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ও ব্যবহার মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অনিয়মের অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বগুড়া বিএডিসি জানায়, সেপ্টেম্বর মাসে তাদের গুদামে মোট ৫৪,১৮৪ টন সার মজুত রয়েছে। বিসিআইসি ইনচার্জ মো. মোস্তফা কামাল জানান, জেলায় ৭,৮৯৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, “গত বছরের তুলনায় এবার সারাদেশে প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন কম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।” মজুত ও বরাদ্দের এই ফারাক কৃত্রিম সংকটের পেছনের রহস্যকে আরও জটিল করেছে।

বাজারে মূল্য পরিস্থিতি:

সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি ৫০ কেজির বস্তা ১,৩৫০ টাকা, এমওপি ১,০০০ টাকা ও ডিএপি ১,০৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রতি কেজি ১০–১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে উচ্চ দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করছে।

মোটকথা, গুদামে পর্যাপ্ত সারের থাকা সত্ত্বেও অসাধু চক্রের কারণে কৃষকরা কৃত্রিম সংকটে জিম্মি হয়েছেন। প্রশাসনের মনিটরিং থাকা সত্ত্বেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কৃষকরা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার