মার্কিন যুদ্ধজাহাজের হঠাৎ বাংলাদেশে আসাকে ‘শুভেচ্ছা সফর’ বলা কতটা গ্রহণযোগ্য?
ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা আবার
চট্টগ্রাম:
বাংলাদেশে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আগমনকে সরকারিভাবে “শুভেচ্ছা সফর” বলে বর্ণনা করা হলেও, দেশের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা। ইতিহাসে কখনও যুদ্ধজাহাজ নিয়ে কোনো দেশ অন্য দেশে “শুভেচ্ছা সফরে” গেছে—এমন নজির প্রায় নেই। সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতির ওপর সরাসরি আঘাত।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার USS Fitzgerald (DDG-62) নোঙর করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি বন্ধুত্বসূচক সফর, যার উদ্দেশ্য দুই দেশের নৌবাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ বিনিময়। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “বন্ধুত্বের আড়ালে” অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে কিনা, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সমালোচকদের অভিযোগ—পশ্চিমা শক্তির প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য দেখিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন নীতি বিপন্ন করছেন বর্তমান সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তারা বলছেন, “পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের আজ্ঞাবহ দাস” হয়ে ইউনুস সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব আমেরিকার হাতে তুলে দিচ্ছে। তাদের মতে, এই যুদ্ধজাহাজ সফর কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভেতরকার নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারের এক সূক্ষ্ম প্রচেষ্টা।
রাজনৈতিক মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে, ইউনুস সরকারের নীরব সম্মতি ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ সম্ভব নয়। অনেকেই বলছেন, “এটি শুভেচ্ছা সফর নয়, বরং সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের সূক্ষ্ম কৌশল।”
অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জনগণের অসন্তোষের মধ্যেই মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে—যা বহু বিশ্লেষকের মতে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার বড় পদক্ষেপ হতে পারে।
সরকারি পক্ষ অবশ্য দাবি করছে, এই সফরের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র “দ্বিপক্ষীয় সৌহার্দ্য ও নৌ-কৌশল বিনিময়।” কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে—যুদ্ধজাহাজ কি কখনও সৌহার্দ্যের প্রতীক হতে পারে?
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ভাষায়, “যে রাষ্ট্র নিজের নৌবন্দর বিদেশি শক্তির জন্য খুলে দেয়, সে তার স্বাধীনতার সীমানা নিজেই দুর্বল করে ফেলে।”
জনমনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—“বাংলাদেশ কি সত্যিই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, নাকি পশ্চিমা হুকুমের দাসে পরিণত হচ্ছে?”
বিশ্লেষকদের মতে, এখনই যদি ইউনুস সরকারের এই নীতি পরিবর্তন না হয়, তবে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর সংকটে নিমজ্জিত হবে।
