শহিদুলের মুক্তি নাটক,ইসরায়েল কে মানবিক প্রমানের চেষ্টা!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যে ইসরায়েল ফিলিস্তিনের মাটিতে প্রতিদিন চালাচ্ছে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ, সেই ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বাংলাদেশি নাগরিক শহিদুল আলম। যাকে কিনা খোদ ইসরায়েল তাদের ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি’ হিসেবে আটক করেছিল, সেই ব্যক্তিই আজ মুক্ত! এই আকস্মিক মুক্তি কি সত্যিই মুক্তি, নাকি এককভাবে সাজানো নাটকের শেষ দৃশ্য—সেই প্রশ্নই এখন বিশ্বজুড়ে বিবেকবান মানুষের মনে।
শহিদুলকে আটক করা হয়েছিল ইসরায়েলের সেই কুখ্যাত ‘প্রশাসনিক আটক আইন’ (Administrative Detention Law)-এর অধীনে, যে আইনে হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে বিনা বিচারে বছরের পর বছর কারাগারে পচতে হয়। যেখানে সামান্য সন্দেহের বশে একজন ফিলিস্তিনির জীবন ধ্বংস করে দেওয়া হয়, সেখানে শহিদুলের মতো একজন ‘আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা হুমকি’কে এত সহজে ছেড়ে দেওয়া হলো কেন? এর পেছনে লুকিয়ে আছে পশ্চিমাদের সেই পুরনো খেলা: নিজেদের এজেন্টদের নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
এই ঘটনা এক নির্লজ্জ ভন্ডামির প্রতিচ্ছবি। একদিকে তারা শিশুদের রক্তে নিজেদের হাত রঞ্জিত করছে, গাজাকে পরিণত করেছে এক মৃত্যুপুরীতে। অন্যদিকে, শহিদুলের মতো চরিত্রদের মুক্তি দিয়ে নিজেদের ‘মানবাধিকার রক্ষাকারী’ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে। রক্তাক্ত হাতেই তারা শান্তির পতাকা নাড়ছে, যা দেখে মানবতা আজ লজ্জিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত চিত্রনাট্য। শহিদুলকে আটক করে প্রথমে তাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করা হয়েছে। এরপর তাকে মুক্তি দিয়ে এমন একটি আবহ তৈরি করা হচ্ছে যেন ইসরায়েল বা তার পশ্চিমা প্রভুরা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চায়। এই ‘মুক্ত’ শহিদুল এখন হয়তো শান্তির দূত হিসেবে বিশ্বজুড়ে বক্তৃতা দেবেন, পশ্চিমাদের শেখানো বুলি আওড়াবেন এবং ইসরায়েলের ভয়াবহ অপরাধকে ধামাচাপা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবেন।
যখন হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ বিচারহীনভাবে আটক, যখন গাজার আকাশ-বাতাস লাশের গন্ধে ভারী, তখন একজন শহিদুলের এই মুক্তি কোনোভাবেই স্বস্তির নয়, বরং এটি এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। এই মুক্তি-নাটক প্রমাণ করে, পশ্চিমা বিশ্ব তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে যেকোনো নোংরা খেলায় নামতে পারে।
এই অসহনীয় অবিচার আর কতদিন? এর শেষ কোথায়? সব বিচার মহান স্রষ্টার হাতে। তবে ইতিহাস সাক্ষী, সত্যের জয় একদিন হবেই, আর এই নাটকবাজদের মুখোশও একদিন উন্মোচিত হবে।
