খুলনা কারাগারে আবার যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু: পরিবার বলছে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’
মৃত্যুর সময় হাত পায়ে বেড়ি পরানো ছিল। এই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শেষ কোথায়?
খুলনা প্রতিনিধি:
অক্টোবর ১২, ২০২৫
খুলনা জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা গেছেন খুলনা মহানগর যুবলীগের ২৭নং ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন জনি। তবে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা দাবি করেছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘটিত একটি হত্যাকাণ্ড।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—মৃত্যুর সময়ও জনির হাতে-পায়ে শিকল বা বেড়ি পরানো ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ও সাধারণ মানুষ।
পরিবারের ভাষ্যমতে, একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় জয়নাল আবেদীন জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা ধীরে ধীরে তার অবস্থাকে গুরুতর করে তোলে। অথচ, কারা প্রশাসন যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে অবহেলা করেছে বলেই অভিযোগ উঠেছে।
একজন সহযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অসুস্থ অবস্থায়ও তার হাত-পা শিকল দিয়ে বাঁধা ছিল। এটা শুধু অমানবিক নয়, মানবাধিকারের নগ্ন লঙ্ঘন। চিকিৎসা না দিয়ে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।”
পরিবারের দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে জনিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা ‘কারাগারের ভেতরে সংঘটিত রাষ্ট্রীয় অপরাধ’।
এ ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ শেকলবন্দী অবস্থায় মৃত্যুকে ‘হেফাজতে হত্যা’ বলে আখ্যা দিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করছেন।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষদের দাবি, অবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান চালানো হোক এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
জয়নাল আবেদীন জনির মৃত্যু আবারও প্রশ্ন তুলেছে—বাংলাদেশের কারাগারে বন্দিদের মানবাধিকার ও নিরাপত্তা আদৌ কতটা সুরক্ষিত?
