Saturday, March 7, 2026

কর্নেল হাসিনুর রহমানের দায়িত্বে ২৩৬ বিচারবহির্ভূত হত্যা: মানবাধিকার নিয়ে তাঁর বর্তমান বক্তব্য ‘নৈতিক ভণ্ডামি’ আখ্যায়িত

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ২১৯ views

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের (২০০৪-২০০৬) আমলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) কর্তৃক সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে আসার পর তৎকালীন চট্টগ্রাম র‍্যাবের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানের ভূমিকা এখন গুরুতর প্রশ্নের মুখে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর তথ্য এবং স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর প্রত্যক্ষ কমান্ডের অধীনে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগেই এই সময়ে মোট ২৩৬ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়।

সামরিক বাহিনী থেকে অবসরের পর কর্নেল হাসিনুর রহমান বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার নিয়ে সরব হওয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, যে অঞ্চলে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, সেই হত্যাকাণ্ডের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তাঁর বর্তমান ভূমিকা চরম ‘নৈতিক ভণ্ডামি’র পরিচায়ক।

এইচআরডব্লিউ-এর পরিসংখ্যান: চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ নৃশংসতা

এইচআরডব্লিউ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৪ জুন র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৩৮টি ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা ঘটে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে এককভাবে চট্টগ্রাম বিভাগেই ঘটে সর্বোচ্চ সংখ্যক হত্যাকাণ্ড—মোট ২৩৬ জন নিহত হন।

যখন চট্টগ্রামে এই নৃশংসতার হার সর্বোচ্চ শিখরে ছিল, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রাম র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন কর্নেল হাসিনুর রহমান।

২৩৬ হত্যার কমান্ড দায়বদ্ধতা

সামরিক চেইন অব কমান্ড এবং প্রশাসনিক নীতি অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ইউনিটে সংঘটিত সকল ঘটনার জন্য সরাসরি কমান্ডিং অফিসার দায়বদ্ধ থাকেন। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম বিভাগে সংঘটিত ২৩৬টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য সিইও হিসেবে কর্নেল হাসিনুর রহমান সরাসরি কমান্ড দায়বদ্ধতার অধীনে পড়েন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের দাবি, তৎকালীন এই কর্মকর্তা শুধু সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের কমান্ডেই নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা মহিম উদ্দিনের হত্যাকারী হিসেবে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয় তৎকালীন র‍্যাব সিইও কর্নেল হাসিনুর রহমানকে। মহিম হত্যার মতো গুরুতর ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ দেড় দশকেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

মানবাধিকার নিয়ে ‘বড় বড় কথা’ বলায় বিতর্ক

সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর কর্নেল হাসিনুর রহমান বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মানবাধিকার, সুশাসন ও আইনের শাসন নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। তাঁর এই বর্তমান ভূমিকা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যার প্রত্যক্ষ কমান্ডের অধীনে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ২৩৬টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, এবং যিনি নিজেও একটি হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি অভিযুক্ত, তিনি কীভাবে আজ গণমাধ্যমে এসে মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেন? তাঁর অতীত কর্ম এবং বর্তমান বক্তব্যের মধ্যেকার এই ভয়াবহ বৈপরীত্যকে ‘নৈতিক ভণ্ডামি’ (Moral Hypocrisy) হিসেবে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন সমালোচকরা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সময়ের সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের, বিশেষ করে কমান্ডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।

কর্নেল হাসিনুর রহমানের দায়িত্বে ২৩৬ বিচারবহির্ভূত হত্যা: মানবাধিকার নিয়ে তাঁর বর্তমান বক্তব্য ‘নৈতিক ভণ্ডামি’ আখ্যায়িত

আজকের কন্ঠ ডেস্ক,

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের (২০০৪-২০০৬) আমলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) কর্তৃক সংঘটিত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ পরিসংখ্যান সামনে আসার পর তৎকালীন চট্টগ্রাম র‍্যাবের সিইও (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা) কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমানের ভূমিকা এখন গুরুতর প্রশ্নের মুখে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর তথ্য এবং স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর প্রত্যক্ষ কমান্ডের অধীনে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগেই এই সময়ে মোট ২৩৬ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়।

সামরিক বাহিনী থেকে অবসরের পর কর্নেল হাসিনুর রহমান বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার নিয়ে সরব হওয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, যে অঞ্চলে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, সেই হত্যাকাণ্ডের কমান্ডিং অফিসার হিসেবে তাঁর বর্তমান ভূমিকা চরম ‘নৈতিক ভণ্ডামি’র পরিচায়ক।

এইচআরডব্লিউ-এর পরিসংখ্যান: চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ নৃশংসতা

এইচআরডব্লিউ-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৪ সালের ২৪ জুন র‍্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ৭৩৮টি ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা ঘটে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে এককভাবে চট্টগ্রাম বিভাগেই ঘটে সর্বোচ্চ সংখ্যক হত্যাকাণ্ড—মোট ২৩৬ জন নিহত হন।

যখন চট্টগ্রামে এই নৃশংসতার হার সর্বোচ্চ শিখরে ছিল, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রাম র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন কর্নেল হাসিনুর রহমান।

২৩৬ হত্যার কমান্ড দায়বদ্ধতা

সামরিক চেইন অব কমান্ড এবং প্রশাসনিক নীতি অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট ইউনিটে সংঘটিত সকল ঘটনার জন্য সরাসরি কমান্ডিং অফিসার দায়বদ্ধ থাকেন। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, চট্টগ্রাম বিভাগে সংঘটিত ২৩৬টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য সিইও হিসেবে কর্নেল হাসিনুর রহমান সরাসরি কমান্ড দায়বদ্ধতার অধীনে পড়েন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও গণমাধ্যমের দাবি, তৎকালীন এই কর্মকর্তা শুধু সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের কমান্ডেই নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো, চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতা মহিম উদ্দিনের হত্যাকারী হিসেবে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয় তৎকালীন র‍্যাব সিইও কর্নেল হাসিনুর রহমানকে। মহিম হত্যার মতো গুরুতর ঘটনায় সরাসরি অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ দেড় দশকেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

মানবাধিকার নিয়ে ‘বড় বড় কথা’ বলায় বিতর্ক

সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর কর্নেল হাসিনুর রহমান বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠান ও মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে মানবাধিকার, সুশাসন ও আইনের শাসন নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। তাঁর এই বর্তমান ভূমিকা তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যার প্রত্যক্ষ কমান্ডের অধীনে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে ২৩৬টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, এবং যিনি নিজেও একটি হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি অভিযুক্ত, তিনি কীভাবে আজ গণমাধ্যমে এসে মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেন? তাঁর অতীত কর্ম এবং বর্তমান বক্তব্যের মধ্যেকার এই ভয়াবহ বৈপরীত্যকে ‘নৈতিক ভণ্ডামি’ (Moral Hypocrisy) হিসেবে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন সমালোচকরা।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সময়ের সকল বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের, বিশেষ করে কমান্ডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।

 

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার