Friday, March 6, 2026

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ: আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টদের হত্যার ঘটনায় তদন্তের দাবি

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ৯১৭ views


আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) তদন্ত শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত আইনজীবী স্টিভেন পাওলস কে.সি., ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্স, লন্ডন থেকে, রোম সংবিধির ধারা ১৫ অনুযায়ী এই যোগাযোগপত্র (Article 15 Communication) আদালতের প্রসিকিউটরের কাছে দাখিল করেছেন।

এই যোগাযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর বাংলাদেশে যে সহিংসতা শুরু হয়, তা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং শেখ হাসিনার সরকার-সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আক্রমণে রূপ নেয়। এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, বেআইনি আটক ও নির্যাতন—যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ, বিশেষ করে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের (crimes against humanity) আওতায় পড়ে।

বাংলাদেশ ২০১০ সালের ২৩ মার্চ রোম সংবিধি অনুমোদন করে এবং একই বছরের ১ জুন থেকে এ সংবিধি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইসিসির এখতিয়ার প্রযোজ্য।

যোগাযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, জুলাই ২০২৪ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থককে হত্যা করা হয়েছে, যাদের অনেককে গণপিটুনি ও নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। ভিডিও প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যে এসব হত্যার বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া আওয়ামী লীগ বা তাদের সমর্থক হিসেবে ধারণা করা হয়েছে এমন অনেককেই অযৌক্তিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়েছে, যাদের মধ্যে রাজনীতিক, বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক, এমনকি অভিনেতা-গায়কও রয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ জন আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের অনেকের দেহে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যদিও সরকারিভাবে তাদের মৃত্যুর কারণ “হার্ট অ্যাটাক” বলা হয়েছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন অনির্বাচিত সরকার “ডেভিল হান্ট” অভিযান চালু করে, যার ঘোষিত লক্ষ্য ছিল “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দমন”। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে মাত্র ১২ দিনের মধ্যে ১৮,০০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দেশে এসব অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া কার্যত অচল এবং তদন্ত বা বিচারের কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই। বরং ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার “ইমিউনিটি অর্ডার” জারি করে, যেখানে বলা হয়েছিল:

“যারা ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে গণআন্দোলন সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন, তারা কোনো মামলা, গ্রেপ্তার বা হয়রানির মুখে পড়বেন না।”

আইসিসিতে দাখিল করা যোগাযোগপত্রে বলা হয়েছে, এমন একতরফা দণ্ডমুক্তি দেওয়া শুধু অপরাধীদের উৎসাহিত করে না, বরং রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করে।

স্টিভেন পাওলস কে.সি.-এর নেতৃত্বে প্রেরিত এই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হস্তক্ষেপই বর্তমানে ন্যায়বিচার পাওয়ার একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। তদন্ত শুরু হলে নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধমূলক দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

যোগাযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় প্রতিশোধমূলক সহিংসতা বিশ্বব্যাপী একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা, এবং এমন অপরাধ দমন করা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে জরুরি।

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার