চলতি বছরের মত আগামী বছরেও পাঠ্যবই নিয়ে বিপাকে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বছরের শেষ প্রান্তে এসেও মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবইয়ের মুদ্রণের কাজ সেভাবে শুরুই করতে পারেনি। সে কারণে আগামী বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানান, নভেম্বরের শুরুর সময় এসে এখন পর্যন্ত মাধ্যমিকের ১ শতাংশ পাঠ্যবই ছাপানো হয়েছে। অনেক ছাপাখানা এখন পর্যন্ত কাজ পেয়েও চুক্তি করেনি। ফলে নির্ধারিত সময়ে এবারও পাঠ্যবই মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না। এ পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা মার্চ নাগাদ বই পেতে পারে।
মঙ্গলবার সরেজমিন এনসিটিবি ভবনে ছাপাখানা মালিকদের আনাগোনা দেখা গেছে। তারা বলছেন, পুনঃদরপত্র, নানা শর্ত বই ছাপার কাজকে ধীরগতি করেছে। এমন চলতে থাকলে মার্চ-এপ্রিলে শিক্ষার্থীরা বই পাবে কী না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাদেরও। এদিন কিছু প্রেস মালিককে চুক্তি করতে দেখা যায়। তারা জানান, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ কার্যক্রমে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি মোটেও সন্তোষজনক নয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, মাধ্যমিকের জন্য মোট ২১ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ৩০০ কপি বই ছাপানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নবম শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা ৫ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার ২৮ কপি, যা ২৩৪টি লটে ভাগ করা হয়েছে। চুক্তির পর ৭০ দিনের মধ্যে এই বই ছাপা শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ফর্মা ছাপানো হয়েছে। আর বাইন্ডিং (বাঁধানো) সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৪ হাজার কপি। অর্থাৎ মাত্র এক শতাংশ। বর্তমানে ২২১টি লটে কাজ চলছে, ১৩টি লট নন-রেসপনসিভ থাকায় পুনঃদরপত্রে পাঠানো হচ্ছে।
এনসিটিবি জানায়, নবম শ্রেণির বইয়ের নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) জারি হয়েছে ২৭ অক্টোবর। নোয়ার পর ছাপাখানা মালিকরা চুক্তির জন্য ২৮ দিন সময় পান। নির্ধারিত সময়ে চুক্তি করলেও ছাপানো শুরু করতে ডিসেম্বর যাবে। এরপর ছাপানোর জন্য এনসিটিবি আরও ৫০ দিন সময় দিয়েছে তাদের। এতে জানুয়ারি মাস তারা ছাপানোর জন্য পাবেন। এছাড়াও বই বাঁধায়, ট্রাকে জেলা-উপজেলায় পৌঁছে দিতেও অনেক সময় লেগে যায়। অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম পর্যন্ত তিন শ্রেণির পাঠ্যবই ছাপার কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনো।
