Friday, March 6, 2026

বিএনপির শাসনামলের দুর্নীতির দায় জামায়াতেরও- রাজীব আহাম্মদ

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ১০২ views

দুর্নীতি এবং একাত্তর নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতকে পরস্পরকে যেভাবে আক্রমণ করছে, তাতে মনে হচ্ছে, দুই অপরিচিত লোকের হঠাৎ দেখা হয়েছে।

১.আওয়ামী লীগ বলত, বিএনপি দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। যদিও অভিযোগটা পরিসংখ্যানগত ভাবে ঠিক না। কারণ, বাংলাদেশ ২০০২ সালে দুর্নীতির ধারনাগত সূচকে চ্যাম্পিয়ন হলেও, দুর্নীতির অভিযোগগুলো ২০০১ সালে। সেই সময়ে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ ও তত্ত্বাবায়ক সরকার। পরের তিন বছর বাংলাদেশ দুর্নীতির ধারনায় শীর্ষে থাকলেও, প্রতিবছরই পয়েন্টে উন্নতি হয়েছিল। যার মাধ্যমে ২০০৫ সালে শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের ধারনা থেকে মুক্তি পায়।
বিএনপি আমলের সেই পুরোটা সময় জোট সরকারে শরিক ছিল জামায়াত। কিন্তু আওয়ামী লীগের অস্ত্র তুলে নিয়ে জামায়াত এখন বলছে, বিএনপির আমলে দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল। তাই তারা ক্ষমতায় গেলে, আবার দুর্নীতি করবে।
এই তর্ক মেনে নিয়ে প্রশ্ন করতে চাই, বিএনপি শাসনামলের দুর্নীতির দায় কী সরকারের শরিক হিসেবে জামায়াতের নেই? জামায়াতের নেতারা যে তিন মন্ত্রণালয় চালিয়েছেন, সেগুলো সম্পর্কে দুর্নীতির ধারনা কী বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন বানাতে সাহায্য করেনি?
যদি করে থাকে, তাহলে দুর্নীতির দায় জামায়াতেরও। দ্বিতীয় কথা হল, জামায়াত শেষ পর্যন্ত সরকারে ছিল। জোট সরকার যদি এতই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াত সরকার ছাড়ল কেনো? কিংবা ওই সরকারে মেয়াদ শেষে বিএনপির মত দুর্নীতিবাজ দলের সঙ্গে আরও ১৭ বছর জোটে ছিল কেনো?

২. বিএনপি আজকাল আওয়ামী লীগের মত জামায়াতকে একাত্তরের ভূমিকার জন্য আক্রমণ করছে। আজ যেমন বলা হয়েছে, জামায়াতকে একাত্তরেই দেখা হয়েছে। তারা নিজ স্বার্থে সেই সময়ে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে।
প্রশ্ন হল, একটি দল গণহত্যাকারী তা জেনেও বিএনপি কীভাবে সরকার ১৯৯১ সালে তাদের সমর্থন নিল? তারপর ১৯৯৯ সাল থেকে ২৫ বছর এক জোটে থাকল? একসঙ্গে সরকার চালাল? নির্বাচন করল? মন্ত্রিসভা চালাল? জামায়াত তো যা করার ১৯৯১ সালের আগেই করেছে। জামায়াত ধর্ম ব্যবসা বা মোনাফেকি করলে তো ২০২৪ সালে জোট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে করছে না? আগে থেকেই করছে।

৩. আসল ঘটনা হল, বিএনপি ও জামায়াত এখন প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই পরস্পরের বিরুদ্ধে ময়দান গরম করা বক্তব্য দিচ্ছে। এগুলো সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই। তবে এটাকে আমি খুব ইতিবাচক হিসেবে দেখি। আমার ফেসবুকীয় ভাই শুভ্র লিখেছে, জামায়াত আস্তে আস্তে বিএনপির মত হচ্ছে আর বিএনপি আওয়ামী লীগের মত হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাজনীতিতে আর আওয়ামী লীগের স্টেক থাকছে না।

আমিও তাই মনে করি। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ মাঠে যত দল আছে তারা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন, শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা- এই চার বিষয়ে মিনিমাম ঐকমত্য রেখে বাকি বিষয়ে সারাদিন বোন্দাবুন্দি করে, এটা গণতন্ত্রের ভালো জরুরি। তাই ওয়ার্কিং রিলেশনের পাশাপাশি ক্যাচালও জরুরি। তাতে অন্য কারো জন্য পরিসর খালি থাকে না। প্রত্যেক মানুষের ইন্টারেস্ট ও ভয়েসকে সার্ভ করার জন্য কোনো না কোনো দল তখন থাকবে।

রাজীব আহাম্মদ
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার