Friday, March 6, 2026

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার: প্রগতিশীল ছাত্রদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অধ্যাপকদের জরুরি আবেদন

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ৪৭৪ views

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছায়া নেমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধপন্থী মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছাত্রদের ছাত্রত্ব এবং শিক্ষাগত সার্টিফিকেট অযথা বাতিল করা হয়েছে—যা কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। এই অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী খ্যাতনামা অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদদের এক দল জরুরি আবেদন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, এই বাতিলকরণগুলো শুধুমাত্র ছাত্রদের রাজনৈতিক পরিচয় ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে করা হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষার নৈতিক ভিত্তিকে ক্ষুণ্ণ করছে। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অ্যাগেইনস্ট অ্যাট্রসিটি অ্যান্ড ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটির (GA3VH) মাধ্যমে জারি করা এই চিঠিতে স্বাক্ষরিত হয়েছে ১১ জন বিশিষ্ট অধ্যাপকের, যাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ। আবেদনটি ৫ ডিসেম্বর তারিখে ড. ইউনূসের কাছে পাঠানো হয়েছে।ছাত্রদের অধিকার লঙ্ঘন: সংবিধানের অধ্যায়গুলোর প্রতি অবজ্ঞাআবেদনকারীদের মতে, এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নিয়মকানুনের সরাসরি লঙ্ঘন।

বিশেষ করে—ধারা ২৭: আইনের সামনে সমতা।

ধারা ৩১: আইনের সুরক্ষা এবং ন্যায়পরায়ণ প্রক্রিয়ার অধিকার।

ধারা ৩৮: সংঘ গঠনের স্বাধীনতা।

“এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অকাদেমিক ফাঁদকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রয়াস,” আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। “এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, যা ছাত্রদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণকে দমিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অরাজনৈতিক, নিরাপদ এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্মুক্ত স্থান হিসেবে রক্ষা করা উচিত—কোনো বিশ্বাসের জন্য শাস্তি দেওয়ার জায়গা নয়।”আবেদনকারীরা জানিয়েছেন, এই বাতিলকরণগুলোতে প্রমাণিত হয়েছে যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছাত্ররা অসামান্যভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বমান্যতা এবং নৈতিক মর্যাদাকে হুমকির মুখে ফেলছে।চার দফা দাবি: ন্যায়ের পক্ষে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের আহ্বান আবেদনপত্রে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে: তাৎক্ষণিক পুনর্বহাল: রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ছাত্রত্ব বা সার্টিফিকেট বাতিলকৃত সকল ছাত্রের অবিলম্বে পুনর্বাসন।স্বচ্ছ তদন্ত: প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং উদ্দেশ্যমূলক তদন্তের জন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ কমিশন গঠন।

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: একাডেমিক শাস্তিকে রাজনৈতিক বৈষম্য বা চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার রোধে প্রতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সরকারি ঘোষণা: একাডেমিক স্বাধীনতা, সাংবিধানিক অধিকার এবং সকল ছাত্রের প্রতি সমান আচরণের প্রতি সরকার ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতির সার্বজনীন পুনরাবৃত্তি।

“আমরা একাডেমিক অখণ্ডতার রক্ষক হিসেবে আমাদের ছাত্রদের অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে কথা বলার দায়িত্ব পালন করছি,” আবেদনের শেষে বলা হয়েছে। “উচ্চশিক্ষায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা, নৈতিক কর্তৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতি রক্ষার জন্য অপরিহার্য।”বিশ্বব্যাপী স্বাক্ষর: শিক্ষাবিদদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠআবেদনের স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন—প্রফ. ড. সৈয়দ সখাবাত হোসেন, সাবেক উপাচার্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ড. এম. আওয়াল, সাবেক উপাচার্য, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত)।প্রফ. অশোক ভট্টাচার্য, জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।ড. মৃদুল বোস, জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, ভারত।ড. মোজাম্মেল খান, শেরিডান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, কানাডা।ড. শিশির ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।প্রফ. ড. শামসুদ্দিন ইলিয়াস, নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র।এবং অন্যান্যরা, যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক, মানবাধিকার কর্মী এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।

GA3VH এর চেয়ারপারসন ইশরাত আলম বলেন, “এই আবেদনটি শুধু ছাত্রদের নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য একটি আহ্বান। আমরা বিশ্বাস করি, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থা ন্যায়ের আলোয় উদ্ভাসিত হয়।”এই ঘটনা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরের পথচলায় শিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশ্বব্যাপী অধ্যাপক সম্প্রদায়ের এই ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা দেখার বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার