একদিকে চীন ও রাশিয়া, অন্যদিকে আমেরিকা। এর মধ্যেই নতুনভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের নাম। এক সময় যাকে রাশিয়া-চীনের জোটের বাইরে ভাবাই যেত না, আজ তারা একই ব্র্যাকেটে উচ্চারিত হচ্ছে। ভূ-রাজনীতির এই পালাবদলের নেপথ্যে রয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ও বাণিজ্যিক কড়াকড়ি ভারতে এক নতুন চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়তেই ভারতের দিকে হাত বাড়িয়েছে চীন। অথচ মাত্র পাঁচ বছর আগেই লাদাখের গালোয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দেশের সেনারা। সেই সংঘাতের পর সম্পর্ক নেমে গিয়েছিল তলানিতে।
তবে ভূ-রাজনীতির বাস্তবতায় পরিস্থিতি পাল্টেছে। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় খুলেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও মার্কিন চাপে ভারতের কৌশলগত দিক পরিবর্তনই এই ঘনিষ্ঠতার মূল কারণ।
অন্যদিকে রাশিয়া, চীনের পুরনো বন্ধু। ২০০১ সালে দুই দেশ ২০ বছরের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি করে, যা আজও বহাল আছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক বলয়ের বাইরে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্যই এ দুই শক্তি একত্রিত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় চীন প্রকাশ্যে রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিসরে ভারতও রাশিয়ার সাথে তার পুরনো সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও রাশিয়া থেকে তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত রয়েছে।
আগামী ৩১ আগস্ট চীনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদান এই নতুন ত্রিমুখী জোটের প্রতীকী ছবি হয়ে উঠতে পারে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা চাপ ও শুল্কনীতি এশিয়ার তিন শক্তিধর দেশকে একত্র করেছে।
চীন-ভারতের সম্পর্কের বরফ গলার পেছনে মূল চালিকাশক্তি ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যনীতি।
রাশিয়া-চীন-ভারতের সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন অক্ষ (Axis) তৈরি করছে, যা মার্কিন প্রভাবের বিকল্প শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
এশিয়ার দুই মহাশক্তি চীন ও ভারত নিজেদের শত্রুতাকে ভুলে যদি একই কাতারে দাঁড়ায়, আর রাশিয়ার সাথে তাদের মিত্রতা যদি স্থায়ী হয়, তাহলে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে পাল্টে যেতে পারে।
