ছয় মাসে দুই হাজার নারী কর্মী হারাল ব্যাংক খাত: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উদ্বেগ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশের ব্যাংক খাতে নারী কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে খাতটিতে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় দুই হাজার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৫৪ হাজার ৬৫০ জন। ২০২৫ সালের জুন শেষে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৬৫০ জনে। অর্থাৎ মাত্র অর্ধবছরেই কর্মক্ষেত্র থেকে সরে গেছেন বা বাদ পড়েছেন দুই হাজার নারী কর্মী। অন্যদিকে একই সময়ে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চার হাজার। বর্তমানে দেশে ব্যাংক খাতে কর্মরত মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার।
নারী নেতৃত্বে বড় সংকট
সংখ্যার পাশাপাশি নেতৃত্ব পর্যায়েও নারীদের অংশগ্রহণে স্পষ্ট সংকট রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে আছেন মাত্র তিনজন নারী, যা মোট এমডির চার শতাংশেরও কম। নারী কর্মকর্তারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করলেও সর্বোচ্চ পদে তাদের উপস্থিতি কার্যত নগণ্য।
অর্থনীতিবিদ ও শ্রমবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কিন্তু পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য রক্ষা করতে না পারা, কর্মক্ষেত্রে চাপ ও নিরাপত্তাহীনতা, এবং পদোন্নতিতে বৈষম্য অনেক নারীকে ব্যাংক খাত থেকে সরে যেতে বাধ্য করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, “ব্যাংকিং খাতের মতো প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের হারিয়ে যাওয়া দেশের আর্থিক খাতের জন্য বড় ক্ষতি। কারণ এই খাতের অগ্রগতি শুধু মুনাফা নয়, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার সঙ্গেও জড়িত।”
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ সরকার নারীর কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্তগুলোতে নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না; বরং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাপ বাড়িয়ে, চাকরির পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তোলা হচ্ছে। এর ফলে নারী কর্মীরা কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার বদলে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সমালোচকরা বলছেন, ইউনুস সরকার টেকসই উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের কথায় জোর দিলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়েছে। নারীর জন্য কর্মক্ষেত্র নিরাপদ না থাকলে ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না করা হলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক দুই দিক থেকেই দেশ পিছিয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণের জন্য নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু ব্যাংক খাত থেকে নারীর এই সরে যাওয়া লক্ষ্য পূরণের পথে নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে নারী কর্মী কমতে থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ব্যাহত হবে, পাশাপাশি লিঙ্গ বৈষম্যও আরও বেড়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদনে এবং বিশেষজ্ঞ মতামতে বলা হয়েছে, নারীর কর্মস্থলে টিকে থাকা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ সৃষ্টি, নিরাপত্তা জোরদার, মাতৃত্বকালীন ছুটির সঠিক বাস্তবায়ন, এবং নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো—এসব পদক্ষেপই হতে পারে সমস্যার সমাধান।
