ভারত-ইসরায়েল বিনিয়োগ চুক্তি: কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়
নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত ও ইসরায়েল তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পথে এগোচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (Bilateral Investment Agreement — BIA) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (Free Trade Agreement) সম্ভাব্য ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
চুক্তির ফলে উভয় দেশের বিনিয়োগকারীরা একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এতে বাণিজ্যিক আস্থা বাড়বে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) প্রবাহ আরও ত্বরান্বিত হবে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তি শুধু ব্যবসা নয়, প্রযুক্তি, কৃষি, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ চুক্তি স্বাক্ষরের পর বলেন, “ভারতের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব কেবল অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করবে।”
কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বরাজনীতিতে ইসরায়েলকে ঘিরে সমালোচনা ও নিষেধাজ্ঞার আবহ থাকা সত্ত্বেও ভারত তার কূটনৈতিক অবস্থানকে ভারসাম্যপূর্ণ রেখেছে। ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন বজায় রাখলেও গত কয়েক দশকে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক বিশেষ করে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে গভীর হয়েছে। সাম্প্রতিক বিনিয়োগ চুক্তি সেই সম্পর্কের ওপর আরও এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতা
অর্থনীতির পাশাপাশি ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম খাতে সহযোগিতা জোরদার হচ্ছে। বিশেষত ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে ইসরায়েলি প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ কারণে এই চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক নয়, কৌশলগত বলেও মনে করা হচ্ছে।
সমালোচনা ও বিতর্ক
তবে সব পক্ষ এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগ উপেক্ষা করে ভারত এই চুক্তি করে নৈতিক প্রশ্নে জড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গাজা ও পশ্চিম তীরে সহিংসতা চলমান থাকায় এ ধরনের চুক্তিকে “অনৈতিক সমর্থন” বলেও আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের বক্তব্য, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তা অগ্রাধিকারেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখার জন্যই একদিকে ফিলিস্তিন প্রশ্নে অবস্থান ধরে রাখা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্যবহারিক সহযোগিতাও বাড়ানো হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই চুক্তি ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও আরও বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতার পথ তৈরি হলে দুই দেশের অর্থনীতি ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান উভয়ই আরও শক্তিশালী হতে পারে।
