নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম: সিন্ডিকেটের দাপটে প্রশাসনের ব্যর্থতা, ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫: রাজধানীসহ দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। বাজারে প্রতিদিনই নতুন করে দাম বাড়ছে, অথচ প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
শুক্রবার সকালে কারওয়ান বাজার, খিলগাঁও ও মিরপুর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, আলু ৫০-৫৫ টাকা, পেঁয়াজ ৯০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, ফুলকপি ও লাউ ৮০-৯০ টাকা এবং ডিম হালি ৫৫-৬০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছ ও মাংসের দাম গত এক সপ্তাহে কেজি প্রতি ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, এক সময়ের বাজার ব্যাগ এখন অর্ধেকও ভরে না।
সিন্ডিকেটের দাপট
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, বাজারে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত একাধিক হাতবদলে দাম দ্বিগুণ হচ্ছে। তবুও প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রশাসন না চাইলে এই সিন্ডিকেট টিকে থাকতে পারে না। আসলে তাদের সঙ্গেই যোগসাজশ আছে, তাই বাজারে লুট চলছে প্রকাশ্যে।”
প্রশাসনের ব্যর্থতা ও দুর্নীতিই কারণ
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং কার্যক্রম শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। অভিযানে বড় ব্যবসায়ী বা সিন্ডিকেট প্রধানদের ধরা হয় না, ধরা হয় ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতাকে। ফলে সিন্ডিকেটরা ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই বাজার নিয়ন্ত্রণের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। তারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও কমিশনের ভাগাভাগির কারণে সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, কৃষকের সঙ্গে সরাসরি বাজার সংযোগ তৈরি করা এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কার্যকর নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে আরও দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি সহ্য করতে হবে।
