Saturday, March 7, 2026

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইউনুসের ছবিটি ভুয়া, মূল ছবিটি পানামার প্রেসিডেন্টের।

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ৩৭১ views

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে ইউনুসের ছবিটি ভুয়া, মূল ছবিটি পানামার প্রেসিডেন্টের। প্রতারক ইউনুসের আরো এক প্রতারণা ফাঁস।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি ছবি, যেখানে দেখা যাচ্ছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কন্যা দীনার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ছবিটি নিউইয়র্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

কিন্তু অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ছবিটি ডিজিটালভাবে সম্পাদিত (এডিটেড)। পাশাপাশি উঠে এসেছে আরও কঠোর অভিযোগ: ড. ইউনূস নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ইমেজ তৈরি করতে এই ছবিটি ব্যবহার করে মিথ্যাচার করেছেন।

ছবিটি প্রথম পোস্ট করা হয় ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ “Chief Adviser GOB” থেকে। পোস্টে লেখা হয়েছিল, “US President Donald Trump and First Lady Melania Trump pose for a picture with Bangladesh Chief Adviser Professor Muhammad Yunus and his daughter Deena Yunus during a reception hosted by the US President on September 23 in New York.”

 

ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর অনুসন্ধান শুরু হয়। দেখা যায়, মূল ছবিটি আসলেই পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো (José Raúl Mulino) এবং তার স্ত্রী মারিসেল কোহেন দে মুলিনোর (Maricel Cohen de Mulino) সঙ্গে তোলা হয়েছিল। ছবিটি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে একটি সংবর্ধনায় তোলা হয়েছিল।

দুটি ছবির তুলনা করলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়:

1. ভাইরাল ছবিতে পানামার প্রেসিডেন্ট দম্পতির জায়গায় নিখুঁতভাবে ড. ইউনূস ও তার কন্যার ছবি বসানো হয়েছে।

2. পটভূমি, ট্রাম্প দম্পতির পোশাক, দাঁড়ানোর ভঙ্গি এবং মার্কিন পতাকার অবস্থান মূল ছবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে।

3. আলোর বিন্যাস, শেড এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র খুঁটিনাটি বিষয়ও একই, যা প্রমাণ দেয় ছবিটি সম্পূর্ণরূপে এডিটেড।

এমনকি ছবির ক্যাপশন এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে ড. ইউনূস নিজেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন, যা অনেকের মতে প্রতারণামূলক ও মিথ্যাচারী পদক্ষেপ।

ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই যাচাই না করে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকে মন্তব্য করেছেন, এমন সম্পাদিত ছবি বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।

একাংশ ব্যবহারকারী আরও সরাসরি মন্তব্য করেছেন যে, ড. ইউনূসের এই পদক্ষেপ একটি ইমেজ ম্যানিপুলেশন, যা তার নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।

 

ডিজিটাল যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ছবি বা খবরের উৎস নিশ্চিত না হয়ে তা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

ড. ইউনূস ও ট্রাম্পের এই এডিটেড ছবি প্রমাণ করে, কিভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব, এবং একই সঙ্গে উঠে আসে একজন ব্যক্তির ইমেজ গঠন ও প্রতারণার কৌশল।

ভাইরাল হওয়া ছবিটি শুধুই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা বিভ্রান্তিকর ছবি। ড. ইউনূসের পদক্ষেপ সামাজিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, যাচাই না করা তথ্য শেয়ার করা ব্যক্তি ও দেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার