'অনুপস্থিতি আমার নীরবতা নয়, খুব দ্রুতই ফিরব, মাথা উঁচু করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব'
— শেখ হাসিনা
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: গৌতম লাহিড়ী (প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাবেক সভাপতি, প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়া)
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, নিজের দেশে ফেরা এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ীর মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাঠকদের জন্য বিশেষ এই সাক্ষাৎকারটি তিন পর্বে সাজিয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ করা হলো。
ছবি: শেখ হাসিনা
আপনি ২০২৭ সালের কথা বললেন। দেখুন, প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট দিন তারিখের উপর নির্ভর করে না। আমরা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এটা শুধু আমার প্রত্যাবর্তনের জন্যই নয় বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্যই অপরিহার্য। দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা অচিরেই সেই লক্ষ্যে পৌছাব।
৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী জাতির পিতার সেলের পাশে কবর খুঁড়ে তাকে আপোষ করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দেশের স্বার্থে কারও কাছে মাথা নত করেননি। আমাকেও ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ এর ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমার দলকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুই আমাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন অতএব আমি খুব দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব।
দেখুন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। বন্দুকের নলের জোরে কিংবা ক্ষমতার আশীর্বাদ নিয়ে কিংস পার্টি হিসেবে এই দলের জন্ম হয়নি। তাই কোন কাগুজে নিষেধাজ্ঞা এই দলকে কখনোই দমিয়ে রাখতে পারেনা। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খান আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলো, ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিলো। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যদি আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যেত তাহলে বাংলাদেশেরই জন্ম হতো না।
জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরও তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখার, ধ্বংস করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ বরাবরই আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। যারা এই নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী মনে করেছেন তাদেরকে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখতে বলব। এই নিষেধাজ্ঞা প্রদান ক্ষমতাসীনদের সাময়িক শক্তি প্রয়োগের নিদর্শন হলেও এটি আদতে তাদের ভয়ের প্রতিফলন। তারা আওয়ামী লীগকে ভয় পায় কারণ আওয়ামী লীগ নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে পারলে তাদের দেশবিরোধী কার্যক্রম চালানো কঠিন হবে। এ কারনেই এই নিষেধাজ্ঞা।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞা দিয়েও কি আওয়ামী লীগকে দমানো গিয়েছে? আমাদের কোটি কোটি সমর্থক, লাখো নেতাকর্মী দেশেই আছে। সকল হামলা, মামলা, জেল জুলুম, নির্যাতন নিষ্পেষণ সহ্য করেও ঐক্যবদ্ধ আছে। ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার ও সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের সকল দেশ বিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থকরাই সোচ্চার রয়েছে। এখনো আমার ছাত্রলীগের ছেলেরাই অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তাদের ধান কেটে দিচ্ছে।
আওয়ামীলীগকে দমিয়ে রাখা যায় পশ্চাতে না, এই দল মানুষের হৃদয়ে বাঁচে, মানুষের ভালোবাসায় বাঁচে। দেশের ও জনগণের স্বার্থেই আওয়ামী লীগের ফিরে আসা অনিবার্য এবং এটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমরা ফিরব আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়ে।
একই সাথে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে শুদ্ধিকরণ কিংবা রিফর্মের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করে। অনেকবার এই অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ নিজেই তার ঘর শুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। এই শুদ্ধিকরণ হবে দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং দলীয় কর্মী ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে, ষড়যন্ত্রকারীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী না।
বর্তমানে আমরা একটি প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা আদর্শিক নেতা-কর্মী তারা সবাই যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামীলীগের পক্ষে, দেশের পক্ষে সোচ্চার আছেন। যারা সকল অত্যাচার নির্যাতন সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ হচ্ছেন তারাই আওয়ামী লীগের মূল চালিকাশক্তি, এরাই প্রকৃত আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে যারা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আওয়ামী লীগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে তারা ইতোমধ্যেই ভোল পালটে ফেলেছে কিংবা চুপ হয়ে গিয়েছে। আমি দলীয় নেতাকর্মীদের বলবো, আপনারা কেউ হতাশ হবেন না। আগুনে পোড়ে সোনা খাঁটি হয়। বর্তমান কঠিন সময় আপনাদের আরো খাঁটি করেছে। এই আগুনের দিন শেষে আওয়ামী লীগ আপনাদের হাত ধরেই আরো পরিশুদ্ধ এবং শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
আমাদের প্রায় ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পায়নি বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি কিংবা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিও। দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন পর্যায়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়েছে, পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, দখল করা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মী এখনো কারাবন্দী, জেলের ভিতর হত্যা করা হয়েছে প্রায় দেড়শো নেতাকর্মীকে। কারাবন্দীদের ন্যূনতম আইনী অধিকার দেয়া হচ্ছে না। জালিম শাসক গোষ্ঠী প্রিয়জনদের জানাজার নামাজ পড়ার সুযোগ পর্যন্ত দিচ্ছে না।
ছাত্রলীগের হাজারো ছেলেমেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে, সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে, শিক্ষার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করার অপরাধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি চাকরি থেকে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণে বাঁচতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অনেকে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করতে চেষ্টা করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে বাংলাদেশের প্রকৃত সত্য তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে দেশের জনগনের কাছে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করছেন। ফেরার প্রশ্নে বলতে চাই, দেশে নূন্যতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন ফিরে আসা মাত্রই তারা ফিরবেন।
আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের, তারাই সময়ের সাহসী যোদ্ধা। তারা শত নির্যাতন সহ্য করে দেশের মাটি আকড়ে ধরে আছেন, শত প্রতিকূলতা মাঝেও দলীয় কর্মসূচী পালন করছেন। তাদের এই ত্যাগ ও সংগ্রাম ব্যর্থ হবে না। দল তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে। বিদেশে যারা অবস্থান করছেন তাদেরকেও নিজেদের কর্মের মধ্য দিয়েই দলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
'অনুপস্থিতি আমার নীরবতা নয়, খুব দ্রুতই ফিরব, মাথা উঁচু করে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব'
— শেখ হাসিনা
ছবি: শেখ হাসিনা
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাবেক সভাপতি, প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়া
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, নিজের দেশে ফেরা এবং দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক গৌতম লাহিড়ীর মুখোমুখি হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পাঠকদের জন্য বিশেষ এই সাক্ষাৎকারটি তিন পর্বে সাজিয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশ করা হলো।
■ প্রথম পর্ব: স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, দলের শুদ্ধি ও চলমান সংকট
আপনি ২০২৭ সালের কথা বললেন। দেখুন, প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট দিন তারিখের উপর নির্ভর করে না। আমরা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এটা শুধু আমার প্রত্যাবর্তনের জন্যই নয় বরং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্যই অপরিহার্য। দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা অচিরেই সেই লক্ষ্যে পৌছাব।
৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী জাতির পিতার সেলের পাশে কবর খুঁড়ে তাকে আপোষ করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দেশের স্বার্থে কারও কাছে মাথা নত করেননি। আমাকেও ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ এর ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমার দলকে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোন কিছুই আমাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন অতএব আমি খুব দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়ে ফিরব।
দেখুন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। বন্দুকের নলের জোরে কিংবা ক্ষমতার আশীর্বাদ নিয়ে কিংস পার্টি হিসেবে এই দলের জন্ম হয়নি। তাই কোন কাগুজে নিষেধাজ্ঞা এই দলকে কখনোই দমিয়ে রাখতে পারেনা। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খান আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলো, ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছিলো। নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যদি আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখা যেত তাহলে বাংলাদেশেরই জন্ম হতো না।
জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরও তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে দমিয়ে রাখার, ধ্বংস করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু আওয়ামী লীগ বরাবরই আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। যারা এই নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী মনে করেছেন তাদেরকে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখতে বলব। এই নিষেধাজ্ঞা প্রদান ক্ষমতাসীনদের সাময়িক শক্তি প্রয়োগের নিদর্শন হলেও এটি আদতে তাদের ভয়ের প্রতিফলন। তারা আওয়ামী লীগকে ভয় পায় কারণ আওয়ামী লীগ নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করতে পারলে তাদের দেশবিরোধী কার্যক্রম চালানো কঠিন হবে। এ কারনেই এই নিষেধাজ্ঞা।
কিন্তু নিষেধাজ্ঞা দিয়েও কি আওয়ামী লীগকে দমানো গিয়েছে? আমাদের কোটি কোটি সমর্থক, লাখো নেতাকর্মী দেশেই আছে। সকল হামলা, মামলা, জেল জুলুম, নির্যাতন নিষ্পেষণ সহ্য করেও ঐক্যবদ্ধ আছে। ডঃ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার ও সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের সকল দেশ বিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থকরাই সোচ্চার রয়েছে। এখনো আমার ছাত্রলীগের ছেলেরাই অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তাদের ধান কেটে দিচ্ছে।
আওয়ামীলীগকে দমিয়ে রাখা যায় না, এই দল মানুষের হৃদয়ে বাঁচে, মানুষের ভালোবাসায় বাঁচে। দেশের ও জনগণের স্বার্থেই আওয়ামী লীগের ফিরে আসা অনিবার্য এবং এটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আমরা ফিরব আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়ে।
একই সাথে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে শুদ্ধিকরণ কিংবা রিফর্মের নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করে। অনেকবার এই অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আওয়ামী লীগ নিজেই তার ঘর শুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে। এই শুদ্ধিকরণ হবে দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং দলীয় কর্মী ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতার মধ্য দিয়ে, ষড়যন্ত্রকারীদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী না।
বর্তমানে আমরা একটি প্রাকৃতিক শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যারা আদর্শিক নেতা-কর্মী তারা সবাই যার যার অবস্থান থেকে আওয়ামীলীগের পক্ষে, দেশের পক্ষে সোচ্চার আছেন। যারা সকল অত্যাচার নির্যাতন সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের পক্ষে উচ্চকণ্ঠ হচ্ছেন তারাই আওয়ামী লীগের মূল চালিকাশক্তি, এরাই প্রকৃত আওয়ামী লীগ। কিন্তু বিভিন্ন পর্যায়ে যারা কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আওয়ামী লীগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে তারা ইতোমধ্যেই ভোল পালটে ফেলেছে কিংবা চুপ হয়ে গিয়েছে। আমি দলীয় নেতাকর্মীদের বলবো, আপনারা কেউ হতাশ হবেন না। আগুনে পোড়ে সোনা খাঁটি হয়। বর্তমান কঠিন সময় আপনাদের আরো খাঁটি করেছে। এই আগুনের দিন শেষে আওয়ামী লীগ আপনাদের হাত ধরেই আরো পরিশুদ্ধ এবং শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
আমাদের প্রায় ছয় শতাধিক নেতাকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাযজ্ঞ থেকে রক্ষা পায়নি বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি কিংবা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিও। দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীকে বিভিন্ন পর্যায়ে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়েছে, পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, দখল করা হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মী এখনো কারাবন্দী, জেলের ভিতর হত্যা করা হয়েছে প্রায় দেড়শো নেতাকর্মীকে। কারাবন্দীদের ন্যূনতম আইনী অধিকার দেয়া হচ্ছে না। জালিম শাসক গোষ্ঠী প্রিয়জনদের জানাজার নামাজ পড়ার সুযোগ পর্যন্ত দিচ্ছে না।
ছাত্রলীগের হাজারো ছেলেমেয়ের ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে, সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে, শিক্ষার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং আওয়ামী লীগের আদর্শ ধারণ করার অপরাধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি চাকরি থেকে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণে বাঁচতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অনেকে দলকে সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করতে চেষ্টা করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে বাংলাদেশের প্রকৃত সত্য তুলে ধরছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে দেশের জনগনের কাছে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করছেন। ফেরার প্রশ্নে বলতে চাই, দেশে নূন্যতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন ফিরে আসা মাত্রই তারা ফিরবেন।
আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের, তারাই সময়ের সাহসী যোদ্ধা। তারা শত নির্যাতন সহ্য করে দেশের মাটি আকড়ে ধরে আছেন, শত প্রতিকূলতা মাঝেও দলীয় কর্মসূচী পালন করছেন। তাদের এই ত্যাগ ও সংগ্রাম ব্যর্থ হবে না। দল তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে। বিদেশে যারা অবস্থান করছেন তাদেরকেও নিজেদের কর্মের মধ্য দিয়েই দলে অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
