Friday, March 6, 2026

কারাগারে সুজনের মৃত্যু, পরিবারের সন্দেহ পরিকল্পিত হত্যা।

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ৫০২ views

কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সুজনের (৪৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে কারাগারের সূর্যমুখী ভবনের একটি কক্ষে ঘটনাটি ঘটেছে। কারা সূত্র জানায়, কারাগারের সূর্যমুখী ভবনের একটি সাধারণ কক্ষে তিনজন বন্দী ছিলেন। ঘটনার সময় একজন আদালতে, আরেকজন ঘুমিয়ে ছিলেন।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকালে তিনি নাশতা করেছেন। এরপরই কক্ষে ফাঁস দেন।’ কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, সাইদুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুজনের (৪৫) মৃত্যু নিয়ে ‘সন্দেহপোষণ’ করেছে তার পরিবার।

রোববার (১৫ জুন) বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে সুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এরপর স্বজনরা মরদেহ বুঝে নেন।
এ সময় নিহতের বড় ভাই মেরাজ মাতবর বলেন, দুপুরে কারাগার থেকে ফোন করে সুজনের বিষয়ে জানানো হয়। তবে তখনও তার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন করে তারা। শুধু বলে, আপনারা হাসপাতালে আসুন। এরপর বিকেলে এসে সুজনের মরদেহ দেখতে পাই।

তিনি বলেন, সুজনের গলায় ক্ষত রয়েছে, থুতনিতেও ক্ষত আছে। বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সুরতহাল প্রস্তুতের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকেও বিষয়টি আমাদের পক্ষ থেকে অবগত করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল উদ্দিন মিয়া।

এর আগে রোববার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সূর্যমুখী ভবনের একটি কক্ষে নিজের গলায় গামছা পেঁচিয়ে ফাঁস দেন সুজন।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, বন্দি সাইদুর রহমান সুজন ডিটেনশনে সূর্যমুখী ভবনের একটি কক্ষে ছিলেন। সকালে বন্দি সুজন নাশতাও করেছেন। ওই কক্ষে তিনজন বন্দি, একজন সম্ভবত আদালতে গিয়েছেন, অপরজন ঘুমিয়ে ছিলেন, এ সুযোগে সুজন নিজের গামছা পেঁচিয়ে জানালার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন। পরে তাকে কারা হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যান।
সাইদুরের স্ত্রী রোকসানা রহমান বলেন, ‘কে বলছে? আরে ভাই না। সকাল বিলা (বেলা) ওনার ওইখান থিকা একজন লোক কোর্টে আইছে, সে দেইখা আসছে তিনি সুস্থ। যখন যে কোর্টে আসত, তার কাছ থিকা খবর নিতাম। সে বলছে, ভালা ভাইরে সকালে রাইখা আসছি।’

কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় সাইদুরের চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি বলেও অভিযোগ করেন রোকসানা রহমান। তিনি বলেন, ‘তাঁর হার্টে দুইটা রিং পরানোর কথা ছিল। কিন্তু ধইরা ফালাইলো (গ্রেপ্তার করল)। তারপর হাসপাতালে নিবার চাইলাম, অনুমতি পাইলাম না। থানায় রিমান্ডে আনছিল, তখন ব্যথা উঠছিল। পরে ব্যথা কইমা যাওয়ায় পুলিশ বলছিল, ব্যথা যেহেতু কইমা গেছে, হাসপাতালে নেওয়া লাগব না। এরপরও এনাম থিকা (এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) একটুখানি পরীক্ষা কইরা নিতে চাইছিলাম, পরে তারা কইল, না করা লাগব না, উনি তো সুস্থই আছে।’

সাইদুরের স্ত্রী বলেন, ‘আমি হার্টের ওষুধ কিনা দিলাম। এরপর আরেকবার থানায় আনছে, তখনো ভালোই আছিল। খালি কান্নাকাটি করছে, খালি কইছে আমারে বাইর করো (জেলখানা থেকে), আমার দুম (দম) বন্ধ হইয়া আহে। আমি আটকা জায়গায় থাকা পারি না। আমি তারে বলছিলাম, জামিন তো দেয় না এখন। খালি কান্নাকাটি করছে।’

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার