Friday, March 6, 2026

মন্ট্রিয়লে প্রথম বাংলাদেশ ডে প্যারেড উদযাপিত

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ৪৪৮ views

গ্লোবাল অ্যালায়েন্স এগেইনস্ট এজেন্ট এন্ড ভায়োলেন্স অন হিউম্যানিটি (GA3VH)এর আয়োজনে মন্ট্রিয়লে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ডে প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে কমিউনিটির অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাবেয়া হোসেন।

প্যারেডের প্রথম অংশে লাল-সবুজ পতাকা হাতে ছোট ছোট শিশুরা বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করে হাঁটে। দ্বিতীয় পর্বে শিশু-কিশোরদের জন্য আয়োজিত হয় “এসো বাংলাদেশকে জানি” কুইজ প্রতিযোগিতা, যেখানে প্রায় ৩০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। কুইজ পর্বটি অত্যন্ত দক্ষতা এবং সুশৃংখলভাবে পরিচালনা করেন ড. শিশির ভট্টাচার্য। বিচারক মণ্ডলীতে ছিলেন জেবুল হাসান, নওসাবা করিম, মানু হালদার ও ফাতেমা আক্তার।

অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহব্যঞ্জক পারফরম্যান্সের জন্য প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে বই প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণ করেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্সের এক্সিকিউটিভ চান্দ্রা ও তারেক চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল করিম জাহাঙ্গীর।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে গ্লোবাল অ্যালায়েন্সের চেয়ারপারসন ইশরাত আলম বলেন,

“গ্লোবাল অ্যালায়েন্স শিশু, নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে মূলধারায় কাজ চালিয়ে যাবে। খুব শিগগিরই আমাদের ওয়েবসাইট উদ্বোধন হবে, যেখানে এক্সিকিউটিভ প্যানেল এবং আগামীর কর্মসূচি উল্লেখ থাকবে।”

তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন IGA সুপার মার্কেটকে, শিশুদের জন্য পানি, জুস, গ্র্যানোলা বার, ডোনাট ও আপেল সরবরাহ করার জন্য।

চমৎকার সাংস্কৃতিক পর্বে পরিবেশিত হয় বাংলা গান, লোকগান, আধুনিক গান, কবিতা ও নৃত্য। অংশ নেন শিল্পী সফিনা কারিম, নাজনীন মিশা, প্রণব মিঠু, বি জামান সুজন ও কবিতায় রাঙ্গা। এছাড়া নৃত্যকলা একাডেমির শিশুদের পরিবেশনা সকলকে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের ব্যানারে লেখা ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর বাণী—

“শ্বেত শতদল-বাসিনী নয় আজ
রক্তাম্বরধারিণী মা,
ধ্বংসের বুকে হাসুক মা তোর
সৃষ্টির নব পূর্ণিমা।”

এছাড়াও স্থান পেয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি—

“মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রাণ হলো বলিদান।”

অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ করেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দদের মধ্যে
ছিলেন ,কমিউনিটি নেতা সাজ্জাদ হোসেন সুইট, শরিফ উল্লাহ, লুৎফুর রহমান, সাংবাদিক তানভির ইউসুফ রনি, মনোয়ারা বেগম, মুফতি ফারুক, অনুপ চৌধুরী মিঠু, ইলোরা আক্তার, শাহ আলম মোল্লা এবং আরও অনেকে।

স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছেন—প্রাইমারিকা (মনোয়ারা বেগম), বিক্রমপুরের প্রেসিডেন্ট বজলুর রহমান, সালাতিন রেস্টুরেন্ট (সাজ্জাদ হোসেন সুইট), সালমা আক্তার, লুৎফুর রহমান, ইলোরা আক্তার, শাকিলা শারমিন, শরিফ উল্লাহ, নাজনীন নিশা।

অনুষ্ঠানের ভিডিওগ্রাফি ও ফটোগ্রাফিতে ছিলেন সাজু মোয়াজ্জেম।

সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারপারসন ইশরাত আলম বলেন,

“বাংলাকে ভালোবাসুন, বাংলা ভাষাকে ভালোবাসুন। শিশুদের বাংলাদেশ সম্পর্কে জানানো আমাদের কর্তব্য। বাংলার গান, সুর, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আগামী প্রজন্মকে ধারণ করতে হবে—তারাই আলোকবর্তিকা বহন করবে।”

রোদ-বৃষ্টির খেলা চললেও অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও উদ্দীপনায় অনুষ্ঠানের উজ্জ্বলতা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। প্যারেডে শিশুদের হাতে শাপলা, কলকা ও কলসের প্রতীকী সাজ ছিল, যার নকশা ও সৃজনশীলতা উপহার দেন রিনা।

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার