চট্টগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ১০ জন দগ্ধ, নিরাপত্তা প্রশ্নে তোলপাড়
চট্টগ্রাম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী চরপাড়া এলাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডার গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে এ ঘটনায় গুদামমালিকসহ অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সকালে প্রায় ৬টা ৫০ মিনিটে গুদামে হঠাৎ আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকদের মধ্যে একজন জ্বলন্ত সিগারেট টুকরো ফেললে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই সিলিন্ডারে আগুন ধরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন গুদামমালিক মাহবুবুর রহমান (৪৫) এবং শ্রমিকরা — সৌরভ রহমান (২৫), লিটন (২৮), ইউনুস (২৬), আকিব (১৭), হারুন (২৯), ইদ্রিস (৩০), কফিল (২২), রিয়াজ (১৭) ও ছালেহ (৩৩)।
তাদের সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য, কয়েকজনের শরীরের ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে এবং তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন।
চন্দনাইশ ফায়ার স্টেশনের অপারেশন অফিসার সাবের আহমেদ জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নেভানো সম্ভব হয়। গুদামে তিন শতাধিক সিলিন্ডার ছিল বলে জানা গেছে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে আশপাশের বসতবাড়ি ও দোকানপাট ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ত।
বিস্ফোরণের শব্দ এত প্রবল ছিল যে পার্শ্ববর্তী বাড়ির দরজা-জানালার কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কে মানুষজন ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে আসে। অনেকেই অভিযোগ করেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কোনো কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি।
নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রশাসনের ভূমিকা
স্থানীয়রা বলছেন, আবাসিক এলাকার ভেতরে দাহ্য পদার্থ ও গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম থাকার অনুমতি দেওয়া সরাসরি নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুদাম স্থাপনের ক্ষেত্রে অগ্নি নিরাপত্তা মানা হয়নি, নেই পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা। এ ধরনের অবহেলা আরও বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় অনুরূপ ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।
গাফিলতির মাশুল দিচ্ছে সাধারণ মানুষ
এ ধরনের দুর্ঘটনা বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসায়িক খাতে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মকানুন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করত, তাহলে হয়তো এমন বিপর্যয় এড়ানো যেত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি সিলিন্ডার গুদামের জন্য জরুরি ভিত্তিতে লাইসেন্স, নিয়মিত পরিদর্শন, ফায়ার সেফটি পরিকল্পনা ও শ্রমিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। নইলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ভবিষ্যতেও থামানো সম্ভব নয়।
