ব্যাংক খাতে ভয়াবহ অস্থিরতা
খেলাপি ঋণের দাপট, নগদ সংকটে গ্রাহকদের আস্থাহীনতা
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ব্যাংক খাত এখন এক ভয়াবহ অস্থিরতার মুখোমুখি। খেলাপি ঋণের পাহাড়, নগদ সংকট, মালিকানা পরিবর্তন ও তদারকির দুর্বলতায় পুরো আর্থিক খাত অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে সঞ্চয়কারীরা গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়ে গেছে। অথচ প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ সরকারি হিসাবে যা প্রকাশ হচ্ছে তার চেয়েও অনেক বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং সঞ্চয়কারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একাধিক ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকরা টাকা তুলতে গিয়ে নগদ সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মতো না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছেন। এর ফলে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ছাড়া কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে আকস্মিক পরিবর্তন গ্রাহকদের আরও শঙ্কিত করেছে। প্রভাবশালী মহলের প্রভাব বিস্তার ও অস্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। কিছু ব্যাংকের ওপর সরাসরি প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ চালু করা হয়েছে, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুধু কাগুজে পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। ব্যাংক মালিকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বচ্ছতা না এলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব সরাসরি জাতীয় অর্থনীতিতে পড়বে। বিনিয়োগ, শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ব্যাহত হবে। সঞ্চয়কারীরা যদি ব্যাংক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে অর্থনীতির রক্তস্রোত দুর্বল হয়ে পড়বে।
