বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে কলকাতায় বাংলাদেশি মাইগ্রান্ট কমিউনিটির প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর ও সাম্প্রদায়িক নিপীড়নের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ (মাইগ্রান্ট) কমিউনিটি ইন ইন্ডিয়া। বুধবার কলকাতার মার্কুইস স্ট্রিট থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তারা এই প্রতিবাদ জানায়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাগুলো নতুন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সুপরিকল্পিত নকশার মাধ্যমে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়—“ও মা তোর বদিনখানি মলিন হলে আমি নয়নজলে ভাসি”—এই মর্মান্তিক বাস্তবতা আজ হিন্দু সমাজের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত দাস জানান, বাংলাদেশ সরকার নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ভারত সরকার এবং বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে তারা জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংগঠনের দাবিগুলো হলো:
1. অবিলম্বে ঘটনা তদন্ত করে ইউনুস সরকারের সাম্প্রদায়িক মন্তব্য ও নকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
2. নিরপেক্ষ ক্ষমা প্রার্থনা – সংশ্লিষ্ট সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
3. সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন হীন নজিরবিহীন সাম্প্রদায়িক মন্তব্যর জন্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
3. সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে – বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, সম্মান ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি জানায়, বাংলাদেশে চলমান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া কলকাতার বাংলাদেশি মাইগ্রান্টরা অবিলম্বে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়—বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চলমান নির্যাতন বন্ধ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবে।
বাংলাদেশি মাইগ্রান্ট কমিউনিটি, কোলকাতা
