খুনের আসামিদের হাতে বিএনপির নেতৃত্ব : লক্ষ্মীপুরে আতঙ্কে জনসাধারণ
লক্ষ্মীপুর, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে খুনের মামলার আসামিরা ইউনিয়ন বিএনপির শীর্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খুন, রাহাজানি, ডাকাতি ও গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধে অভিযুক্তদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে বসানোয় আবারও প্রমাণ হলো বিএনপি অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের দল।
জানা গেছে, যেসব নেতারা অতীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আত্মসমর্পণ করে সন্ত্রাস ও অপরাধ ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারাই এখন ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ক্ষমতার শূন্যতা এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে তারা প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শন করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, খুনের আসামিদের হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামের মানুষ রাতে বের হতে ভয় পাচ্ছে। ইউনিয়নের অভ্যন্তরে ছোটখাটো বিরোধও এখন সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, কারণ অপরাধীরা রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে প্রভাব বিস্তার করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই ধরণের পদক্ষেপ দেশে গণতন্ত্র ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলবে। অপরাধে অভিযুক্তদের নেতৃত্বে বসানো মানে রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে বৈধতা দেওয়া। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তিকে যেমন ক্ষুণ্ণ করছে, তেমনি জনগণের জীবনে নতুন করে অস্থিরতা ডেকে আনছে।
অভিযোগ রয়েছে, খুনের আসামিরা এখনো মামলার মুখোমুখি হলেও রাজনৈতিক পদ পেয়ে প্রশাসনিক তৎপরতাকে প্রভাবিত করছে। এতে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
খুন, গুম, রাহাজানি ও সন্ত্রাসে অভিযুক্তদের হাতে বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দেওয়ায় লক্ষ্মীপুরসহ সারাদেশে দলটির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
