আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান, দেখামাত্র গ্রেফতারের নির্দেশ; মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাল্টা প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশে অবৈধ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্দেশে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও বিজিবি সদস্যদেরও এই অভিযানে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি থানায় পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে—আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের যেকোনো নেতাকর্মীকে প্রকাশ্যে পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ঢাকা এবং বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছিল। বিশেষ করে ফার্মগেট এলাকায় আয়োজিত এক মিছিলে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণ গোয়েন্দাদের বিশেষ সতর্কবার্তা হিসেবে চিহ্নিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও দলটি দ্রুত পুনর্গঠিত হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় হয়ে উঠছে।
সরকারপক্ষ ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। এমনকি শেখ হাসিনা বিদেশে বসে ভারত সরকারের সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিকল্পনা করছেন—এমন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে থানা পর্যায়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুশ চৌধুরী থানাভিত্তিক বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেখামাত্র গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে দমন-অভিযানের জবাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে এক বার্তায় বলেন, “কতজনকে গ্রেফতার করবে? ইতিহাস সাক্ষী—আওয়ামী লীগকে কারাগারে আটকে রাখা যায় না।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “আজ যারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে, তাদেরও একদিন একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মাত্র এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে দলটির পুনরুত্থান সরকারকে বিস্মিত করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি এক বৈঠকে এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অপরদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বিচার বিভাগের সমালোচনা করে বলেন, অনেক বিচারক নাকি আওয়ামীপন্থী হওয়ায় সহজেই জামিন দিয়ে নেতাকর্মীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছেন।
পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সারাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্বস্তিকর উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে।
