কিংবদন্তী জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদের বিদায়!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, দেশবরেণ্য রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ আর নেই। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুর খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাতিজা, সাবেক এমপি আলী আজম মুকুলের ব্যক্তিগত সহকারী সালাউদ্দিন।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিক। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে।
স্বাধীনতার পর তিনি বহুবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাণিজ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাজীবন তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে গেছেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। আওয়ামী লীগসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই প্রাজ্ঞ রাজনীতিকের অবদান স্মরণ করে শোক প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে তাঁর মরদেহ ভোলায় নেওয়া হবে এবং সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সততা, আদর্শ ও নিবেদনের এক প্রতীক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ—তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারালো এক অভিজ্ঞ ও প্রজ্ঞাবান নেতাকে।
