বিদেশিদের হাতে দেশের গ্যাস, অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের দেশবিক্রির নতুন অধ্যায় রচিত
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১১ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের স্থলভাগের গ্যাস ব্লক বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিশেষজ্ঞদের মতে—এটি দেশের সার্বভৌম সম্পদ বিদেশিদের কাছে বিক্রি করার এক নগ্ন প্রচেষ্টা।
এক কথায়, “গ্যাস নয়, বিক্রি হচ্ছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।”
জনবিরোধী চুক্তির প্রস্তুতি
অন্তর্বর্তী সরকার জনমতের তোয়াক্কা না করেই স্থলভাগের গ্যাস ব্লক বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার দরপত্র আহ্বান করছে।
যে নীতিতে আগে বলা হয়েছিল—দেশের স্থলভাগের সম্পদ স্থানীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের মাধ্যমে উত্তোলন করা হবে, এখন সেই নীতি ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থের বলি হিসেবে।
এমনকি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলেই বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে গোপন দরকষাকষির অভিযোগ উঠেছিল—এবার সেটিই যেন আনুষ্ঠানিক রূপ পেল!
বিশেষজ্ঞদের কঠোর সমালোচনা
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম সরাসরি বলেছেন—
> “দেশের গ্যাস ব্লক বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া মানে সার্বভৌম সম্পদ হস্তান্তর করা। এটা সরাসরি দেশদ্রোহিতা।”
তিনি আরও সতর্ক করেছেন—এভাবে ইজারা দিলে গ্যাসের দাম লাগামছাড়া হয়ে যাবে, দেশের শিল্পকারখানা মারাত্মক সংকটে পড়বে, এবং সাধারণ মানুষকেই এর বোঝা বহন করতে হবে।
অর্থাৎ, বিদেশিরা লাভ করবে—দেশবাসী দেবে খেসারত!
‘বাপেক্স’কে কোণঠাসা করে বিদেশিদের সুযোগ
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) বহু বছর ধরে দেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সফল ভূমিকা রাখলেও, এবার তাকে কার্যত বাদ দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে—বিদেশি তেল কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহল সরকারের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করে বাপেক্সকে ছিটকে দিচ্ছে, যাতে বিদেশিদের জন্য বড় চুক্তির দরজা খুলে দেওয়া যায়।
এ যেন একপ্রকার দেশীয় দক্ষতাকে হত্যা করে বিদেশি পুঁজির জয়জয়কার!
জনগণের প্রশ্ন: কার স্বার্থে এই চুক্তি?
১. বাংলাদেশের গ্যাস ব্লক থেকে বিদেশিরা কোটি কোটি ডলার তুলবে, কিন্তু দেশের প্রাপ্তি সামান্য রয়্যালটি ফি।
২. গ্যাসের দাম আরও বাড়বে, বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদনে ব্যয় দ্বিগুণ হবে।
৩. জাতীয় অর্থনীতি বিদেশি নির্ভরতার নতুন ফাঁদে পড়বে।
তাই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন
> “দেশটা কি আবার উপনিবেশে পরিণত হচ্ছে?”
সমালোচনার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়ায়
ফেসবুক ও এক্স (টুইটার)-এ নেটিজেনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অনেকে লিখছেন—
> “ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার এখন বিদেশি তেল কোম্পানির দালালে পরিণত হয়েছে।”
আরেকজন মন্তব্য করেছেন—
“দেশের মাটি, দেশের গ্যাস—সবই এখন বিক্রির পণ!”
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস কোনো সরকারের নয়, এটি জনগণের সম্পদ।
এই সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার মানে—আগামী প্রজন্মকে পরাধীনতার নতুন শৃঙ্খলে বেঁধে দেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
দেশবাসী আজ জানতে চায়—বাংলাদেশ কি সত্যিই স্বাধীন? নাকি কেবল ‘ইজারা দেওয়া’ একটি ভূখণ্ড?
