রোববার ঢাকার পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) এক সেমিনারে ‘ইনভেস্টমেন্ট পোটেনশিয়ালস ইন দা ওশান গোয়িং শিপিং ইন্ডস্ট্রি’ শীর্ষক আলোচনায় সচিব ইউসুফ এই তথ্য দেন।
নৌসচিব ইউসুফ জানান, তিনটি টার্মিনালের পরিচালনার মেয়াদ ভিন্ন হবে:
লালদিয়ার চর টার্মিনাল: ৩০ বছরের জন্য।
এনসিটি ও পানগাঁও টার্মিনাল: ২৫ বছরের জন্য।
যদিও এর আগে চলতি অক্টোবর মাসের মধ্যেই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে সচিব বলেন, “এটা তো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি। অনেক নেগোসিয়েশনের বিষয় থাকে। আলোচনা চলছে, আমরা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই হয়েই যাবে বলে মনে করছি।”
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটরদের নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ থাকলেও, নৌসচিব মনে করেন এটি দক্ষতা বাড়িয়ে খরচ কমানোর সেরা উপায়।
বর্তমানে একটি জাহাজকে বন্দরে অপেক্ষার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ডলার ওয়েটিং ফি দিতে হয়। একটি জাহাজ ভিড়ে পণ্য খালাস করে চলে যেতে যে ৩-৪ দিন সময় লাগে, বিদেশি অপারেটররা তা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারলে ব্যবসায়ীদের অযথা ওয়েটিং বিল দিতে হবে না।
তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ প্রতিবেশী অনেক দেশেই বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর কাজ করছে এবং সেখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
নৌসচিব ইউসুফ আরও মনে করেন, কেবল বন্দর নয়, সামগ্রিকভাবে পণ্য পরিবহনে সড়ক, রেল ও নদী নিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি ‘মাল্টিমোডাল’ উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানি নিলে সেবা ফি বেড়ে যাবে বলে ব্যবসায়ীরা যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, সে প্রসঙ্গে নৌসচিব বলেন, “১৯৮০ সাল থেকে একই শুল্ক নিয়ে আসছে বন্দর। এত বছরে বন্দরের সেবা ফি বাড়ানো হয়নি। সরকারকেও তো চলতে হয়, ফি তো একটু বাড়াতে হবে।” তবে তিনি আশ্বাস দেন, এই বৃদ্ধি যৌক্তিকভাবে করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ছয়টি স্ক্যানার থাকলেও বেশিরভাগ সময় ৩-৪টি নষ্ট থাকে। এই কারণে বন্দরে পণ্য খালাসে জট বাড়ে। এর সমাধান এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া দ্রুত করতে পদ্ধতির পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
স্ক্যানার কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—এ নিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব রয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলে তা থাকবে না। তারা আধুনিক উপায়ে স্ক্যান করবে।
সচিব বলেন, “পৃথিবীর কোনো দেশের বন্দরে যা নেই, আমরা তা করছি, বন্দরে কনটেইনার খুলে পণ্য ডেলিভারি দিচ্ছি। কোনো দেশের বন্দরে কনটেইনার খোলা হয় না… আমরা এখানে পরিবর্তন আনতে চাচ্ছি।”
আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দ্রুত বাড়বে এবং রপ্তানিকারকদের লিড টাইম কমে যাবে। বন্দরে জাহাজ ভেড়ার সংখ্যা বাড়বে, শুল্ক বাড়বে এবং বিদেশিরা বিনিয়োগ করবে।
