Friday, March 6, 2026

বিশেষ সাক্ষাৎকার: শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী, ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের অভিযোগকে ‘হাস্যকর’ বললেন।

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  তার সরকারের সময় ঘটে যাওয়া সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে হাজারের অধিক প্রাণহানির জন্য তার সরকারের নৈতিক দায় মেনেছেন। ।

বিবাংলা ডেস্ক
০ মন্তব্য ৬৮২ views

 বিশেষ সাক্ষাৎকার:

শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী, ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের অভিযোগকেহাস্যকরবললেন।

প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  তার সরকারের সময় ঘটে যাওয়া সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে হাজারের অধিক প্রাণহানির জন্য তার সরকারের নৈতিক দায় মেনেছেন ।

গৌতম লাহিড়ী,দিল্লী

ভারতের এক গোপন স্থান থেকে ১৫ মাস পর শেখ হাসিনা অবশেষে বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে এই প্রতিবেদকের কাছে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, সুযোগ পেলে তাঁর দল আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো তিনি স্বীকার করেছেন

যে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে চলা গণবিক্ষোভে “হাজারের অধিক নাগরিকের প্রাণহানির জন্য  নেতৃত্বের দায় তিনি নিচ্ছেন।

তাঁর ক্ষমতাচ্যুতি প্রক্রিয়ায় কোনো ‘বিদেশি হাত’ ছিল কি না—এই প্রশ্ন তাঁকে করা হলে তিনি সে বিষয়ে এই মুহুর্তে নীরব থাকেন।

সাক্ষাৎকার

প্রশ্ন: বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে। আপনার দলের সদস্যরা কি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন বলে ভাবছেন?

 শেখ হাসিনা: আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক এবং বাংলাদেশের সংবিধান ও ভোটারদের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এতে কোটি কোটি মানুষের ভোটাধিকার খর্ব হয়। ইতিহাসে দেখা গেছে, যখন কোনো প্রধান দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি, তখন সাধারণ ভোটাররা অন্য কোনো দলকে ভোট না দিয়ে ভোটদান থেকে বিরত থেকেছে। তাই আমাদের অগ্রাধিকার হলো—ভোটারদের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া।

প্রশ্ন: যদি আওয়ামী লীগ এবং তার সদস্যরা কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য এর প্রভাব কী হবে বলে আপনি মনে করেন?

শেখ হাসিনা: আমরা নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকার করছি না—বরং আমরা আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু আমাদের ওপর এমন একটি প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, যারা নিজেরাই অনির্বাচিত এবং গণতন্ত্রের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধাশীল নয়।
এই বর্জন ও নিষেধাজ্ঞার চক্র ভাঙা দরকার, কারণ এটি সরকারের বৈধতাকে দুর্বল করে দেয়। বাংলাদেশ এখনই একটি মুক্ত, সুষ্ঠু অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চায়—যাতে দেশ পুনর্মিলন ও আরোগ্যের পথে হাঁটতে পারে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে এটা কখনোই সম্ভব নয়। আমরা এই দেশের আধুনিক ইতিহাস ও স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত, এবং কোটি কোটি মানুষ আমাদের সমর্থন করে।

 

প্রশ্ন: হিউম্যান রাইটস ওয়াচের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত এবং হাজার হাজার আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান। আপনি তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন — এই রাষ্ট্রীয় সহিংসতার দায় আপনি কি স্বীকার করেন, যা শেষ পর্যন্ত আপনার ক্ষমতাচ্যুতির কারণ হয়?

শেখ হাসিনা: গত বছরের গ্রীষ্মের সেই দুঃখজনক সহিংসতায় প্রতিটি প্রাণহানির জন্য আমি গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি। দেশের নেত্রী হিসেবে আমি শেষ পর্যন্ত নেতৃত্বের দায় স্বীকার করি, কিন্তু এই ধারণা সম্পূর্ণরুপে ভুল যে আমি নিরাপত্তা বাহিনীকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলাম। সেই সময় নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছিল সৎ উদ্দেশ্যে, শুধুমাত্র প্রাণহানি কমানো এবং আইনশৃঙ্খলার আরও অবনতিকে রোধ করার জন্য।

জাতিসংঘের যে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে, আমরা সেই হিসাবের সঙ্গে একমত নই। এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি এবং তথাকথিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’-এর সরবরাহকৃত অপ্রমাণিত ও সীমিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

এমনকি সেই তালিকায় অনেক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আওয়ামী লীগের কর্মী যারা দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন, তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—কিন্তু সেটা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। গত ১৫ মাসে সরকার যথাযথভাবে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারণের সময় পেলেও, এখনো পর্যন্ত তারা নিহতদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি।
আমার বিশ্বাস, এটা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে, যাতে জাতিসংঘের ‘অসংলগ্ন ও অনুমাননির্ভর হিসাব’কে রাজনৈতিক প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা যায়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সাধারণ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে — বিশেষ করে সেগুলো, যেখানে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলোর অনেকেই বর্জন করেছিল, কারণ নিরাপত্তা বাহিনী হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা বিশ্বাস করে না যে ২০২৪ সালের নির্বাচন ছিল “মুক্ত ও সুষ্ঠু”; আর বিএনপি আপনার সরকারকে ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। আওয়ামী লীগ কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করেছে?

শেখ হাসিনা: ২০২৪ সালের নির্বাচনকে স্বাধীন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা “মুক্ত ও সুষ্ঠু” বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন — এই বিষয়টি বিতর্কের নয়।
আওয়ামী লীগ জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নয় বার ক্ষমতায় এসেছে। দলটি কখনোই অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করেনি, যেভাবে বর্তমানে ক্ষমতায় থাকা তথাকথিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ করেছে—যাদের জন্য কোনো বাংলাদেশিই ভোট দেয়নি।

এর পাশাপাশি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম কিছু বড় সংস্কার বাস্তবায়ন করেছিল,আওয়ামী লীগ সরকারই স্বচ্ছতার জন্য ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং আইনের মাধ্যমে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছে। সত্তর ও আশির দশকের নির্বাচনী জালিয়াতির পর থেকে ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে—এটা কেউ অস্বীকার করে না।

এই সব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দেওয়া।
তবে আমি স্বীকার করি, কিছু নির্বাচন সত্যিকারের অংশগ্রহণমূলক হয়নি, কারণ বড় দলগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বর্জন করেছে। এটা আমাদের রাজনীতির ক্ষতি করেছে। এই অংশগ্রহণহীনতার চক্র এখন ভাঙতে হবে। আওয়ামী লীগকে যতই অপছন্দ করুক কেউ, সত্য হলো—স্বাধীনতার পর থেকে আমরা দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি, সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ, কোটি মানুষের সমর্থন আছে। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলে বাংলাদেশের বৈধ ও জনগণের প্রকৃত সম্মতি পাওয়া সরকার গঠনের সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা কেবল আমার মত নয়। জাতিসংঘের স্পষ্ট সুপারিশও একটি সম্প্রীতিময় নির্বাচন—আমি নিশ্চিত, যুক্তরাষ্ট্র সরকারও তাই চায়।

 

প্রশ্ন: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস–এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে—আপনার ১৫ বছরের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়ে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যেখানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম নাকি অর্থ বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন।
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ করেছে যে, আপনি অবৈধভাবে সরকারি জমি বরাদ্দ দিয়েছেন রাজনৈতিকভাবে বা পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে। বর্তমানে আপনাকে, আপনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে আসামি করে আদালতে মামলা চলছে।
এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

শেখ হাসিনা: এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রসিকিউটররা এগুলো সাজিয়েছে।
আমি অস্বীকার করছি না যে দেশে দুর্নীতি আছে, কিন্তু কেউ কখনো প্রমাণ করতে পারেনি যে আমার পরিবার বা ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বা রাষ্ট্র-সমর্থিত দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন।

২৩৪ বিলিয়ন ডলারের অভিযোগটি যেমন অযৌক্তিক, তেমনি হাস্যকরও বটে।
এই পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশের পুরো বাজেটেরও চেয়ে অনেক বেশি! বাস্তবিকভাবে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা সম্ভবই নয়।
যদি সত্যিই এমনটা ঘটত, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেক আগেই ধসে পড়ত।

বরং বাস্তবে যা ঘটেছে তা হলো—
আমার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৪৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এটা কোনো কথার কথা নয়—
এটি আইএমএফ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার যাচাইকৃত তথ্য।

আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীরা প্রমাণ ও তথ্যের চেয়ে অকল্পনীয় কল্পকাহিনী বিশ্বাস করতে বেশি আগ্রহী।

এখন আমি নিজেই একটা প্রশ্ন রাখি—
মুহাম্মদ ইউনূস reportedly প্রায় ৪,০৮০ কাঠা জমি কিনেছেন পূর্বাচলে, যেখানে তিনি নিস্বর্গ” নামে একটি রিসোর্ট গড়ে তুলেছেন।
এছাড়া তিনি ঢাকার উত্তরায় ৩০০ কাঠা জমিও ক্রয় করেছেন।

ড. ইউনূস ১৯৯০ সালে গ্রামীণ ব্যাংকে কাজ শুরু করেছিলেন মাত্র ৬,০০০ টাকা বেতনে।
তাহলে কীভাবে তিনি এত বিপুল সম্পদের মালিক হলেন?
আজ তাঁর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে মোট প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (FD) রয়েছে বলে জানা যায়।
তিনি কখনোই ব্যাখ্যা দেননি, এই বিপুল সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে।

তিনি এর উৎস ব্যাখ্যা করেননি, অথচ এখন তিনিই ক্ষমতায়। আর গণমাধ্যম তাঁর ব্যাপারে অন্ধভাবে প্রশংসা করে চলেছে—গণমাধ্যমের এখন উচিত হবে সরলভাবে বিশ্বাস না করে বরং এই বিষয়গুলো গভীরভাবে যাচাই করা। ক্লিনটন দম্পতির মতো বিখ্যাত বন্ধু আছে বলে ইউনূসকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

 

 

 

 

আরো পড়ুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আমাদের সম্পর্কে

বাঙালীর সংবাদ বাংলা ভাষায়, সবার আগে সেরা সংবাদ পেতে বি-বাংলা ভিজিট করুন।

আজকের সর্বাধিক পঠিত

নিউজলেটার